দলের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করলেই এবার অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- আপলোড তারিখঃ
০৬-০২-২০২০
ইং
মেহেরপুরে আ.লীগের বর্ধিত সভায় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদকে গোলাম রসুলের হুঁশিয়ারি
মেহেরপুর অফিস:
দলের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেহেরপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল। গতকাল বুধবার বিকেলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে টাউন হলে অনুষ্ঠিত শহর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত এ বর্ধিত সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কথা ও কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশসহ তাঁর বিরোধিতা করেন মেহেরপুর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, গতকাল অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ডিসি-এসপি থাকলে দলে আর কেউ না থাকলেও চলবে, এ ঘোষণা দিয়ে আমাদের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দল ছেড়ে দিচ্ছেন। দলে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে মূল্যায়ন করছেন তিনি। ফলে বিরোধী দলের বদলে দলের ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান নিতে হচ্ছে। দলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করা হলে আগামীতে মেহেরপুর জেলায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।’ বর্ধিত সভায় মন্ত্রীর উদ্দেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল আরও বলেন, ‘তুমি কিশোরগঞ্জ উন্নয়ন করছ। ওখানে মন্ত্রীর ভোট করবে। উনার মেহেরপুরের ভোট দরকার নাই।’
অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আশকার আলী, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মিয়াজান আলী, সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ।
সভায় সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাড. মিয়াজান আলী বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে গ্রামকে শহর করতে। কিন্তু আমাদের মন্ত্রী প্রান্তিক জনপদে পরিণত করছেন মেহেরপুর শহরকে। মন্ত্রী জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরের উন্নয়নে চরমভাবে বিরোধিতা করছেন। অথচ এই তিনটি প্রতিষ্ঠানেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে।’ মানসিকভাবে মন্ত্রী পরিবর্তন না হলে মন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি এ সময় হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁর একটি মোটরসাইকেল ছিল না, এখন তাঁর চারটি দামি গাড়ি। তিনি আলাদিনের চেরাগ পাইছেন?’
জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মান্নান ছোট বলেন, ‘মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে আজ আমাদের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা আওয়ামী লীগরাই অবস্থান নিয়েছি। মেহেরপুর জেলাতে সব ইউনিটে কাউন্সিল হচ্ছে না। কারণ, মন্ত্রী কমিটি গঠনেও ভাগ বসাতে চাচ্ছেন।’
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঞ্চালনায় বিশেষ বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রব, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী ইয়াসমিন, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুর আনাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান রূপক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জনিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
মেহেরপুর শহর আওয়ামীলীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ধিত সভায় দলের নেতা-কর্মিদের মূল্যায়ন না করা হলে মন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুসিয়ারী দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেলে শহর আওয়ামীলীগের আয়োজনে পৌর কমিউনিটি মিলনায়তনে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কমেন্ট বক্স