জীবননগরে পচা ও ফ্রিজের মাংস বিক্রির অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
০২-০২-২০২০
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগর মাংস বাজারে বেশি দামে মাংস বিক্রিসহ পচা ও ফ্রিজের মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। জানা গেছে, পৌর শহরের মাছ বাজার-সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাংস বাজারে কিছু অসাধু মাংস ব্যবসায়ীদের কারণে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে গরুর মূল্য সস্তা, অথচ মাংসের বাজার চড়া, মাংসে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম। পাশ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বাজারে গরুর মাংস বিক্রি করা হয় ৪ শ থেকে সাড়ে ৪ শ টাকা কেজি দরে, কিন্তু জীবননগর বাজারে সাড়ে ৫ শ থেকে ৫ শ ৭০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ছাগলের মাংসের বিষয়েও একই অভিযোগ। দত্তনগর বাজারে ৬ শ থেকে সাড়ে ৬ শ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হলেও জীবননগরে সাড়ে ৭ শ থেকে ৮ শ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা প্রতিবাদ করলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মাংসের ক্রেতা রমজান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ছাগলের মাংস কেনার জন্য জীবননগর মাংস বাজারে গেলে দুলাল কসাই ও আজিত কসাই ফ্রিজের মাংস দেয় এবং মাংসের দাম সাড়ে ৭ শ টাকা বলে। আমি একটু কম নেওয়ার কথা বললে এবং ফ্রিজের মাংস দিতে নিষেধ করলে তাঁরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং বলে ফ্রিজের মাংস বিক্রি তো আমরা করেই থাকি।’
এদিকে, গরুর মাংসের ক্রেতা হাসান বলেন, ‘আমি গরুর মাংস কিনতে জীবননগর বাজারে আসি। সেখানে দেখি ফ্রিজের মাংস বিক্রি করছে এবং দত্তনগর বাজার ছাড়া প্রায় ১ শ টাকা বেশি নিয়ে মাংস বিক্রি করছে।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভার পক্ষ থেকে মাংস বাজার মনিটরিং করার জন্য একজন নিয়োগ থাকলেও জীবননগর মাংস বাজারের আজিজ, আক্তার ও দুলাল কসাই প্রতিনিয়ত ফ্রিজের পচা ও বাসি মাংস বিক্রি করে থাকেন। জীবননগর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, প্রতিটি মাংসে পৌরসভা থেকে সীল মারা হয়। কিন্তু পৌরসভা থেকে মাংসে সীল মারার পর যখন চলে যায়, তখন হয়তো কিছু ব্যক্তি ফ্রিজ থেকে মাংস নিয়ে বিক্রি করে। তবে এদের একটি সিন্ডিকেট আছে, সে সিন্ডিকেটই এ কাজটি করছে। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি মালামালের একটি মূল্যতালিকা আছে। যদি কেউ মূল্যতালিকা ছাড়া বেশি দামে বিক্রি করে, তা হলে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স