দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন
- আপলোড তারিখঃ
৩১-০১-২০২০
ইং
বিদ্যার দেবীর আরাধনায় উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদ্যাপন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিদ্যার দেবীর আরাধনায় উৎসবমুখর পরিবেশে দেশে উদ্যাপিত হয়েছে সরস্বতী পূজা। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসবে অগণিত ভক্ত বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করছেন। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর পাদপদ্মে প্রণতি জানিয়েছেন তাঁরা। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশের মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভক্তরা বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠার্থী দেবী সরস্বতীর পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যারতি, আলোকসজ্জ্বা ও মেলা বসেছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের বাণী অর্চণায় সমবেত হচ্ছে নানা সাজে সজ্জ্বিত নারী, পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। আবহমান বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও উৎসবে যোগ দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা উদ্যাপন করা হয়েছে। সকালে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ শুরু হয়। এ সময় পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেবী সরস্বতীর কাছে বিদ্যা ও জ্ঞান প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা। পূজায় মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ। সন্ধ্যায় বড় বাজার দুর্গা মন্দিরে চুয়াডাঙ্গা পূজা রকার্সের আয়োজনে দেশ-জাতির মঙ্গল ও শান্তি কামনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, কনক কুমার দাস ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান। শ্রী অনিক কুমার চক্রবর্তী ও রুদ্র কুমার দের উপস্থপনায় বক্তব্য দেন পূজা রকার্সের সভাপতি মিলন কুমার চক্রবর্তী ও অন্যতম সদস্য সৌরভ শাহা। আজ রাত আটটায় মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা উদ্যাপিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি মতে, এ দিনটিতে দেবী সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। শ্রীপঞ্চমীর দিন অতি প্রত্যুষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্র-ছাত্রীদের গৃহ ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এ দিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাহ্মণভোজন ও পিতৃতর্পণের প্রথাও প্রচলিত। পূজার দিন সন্ধ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়। পূজার পরের দিনটি শীতলষষ্ঠী নামে পরিচিত।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করা যায়। সরস্বতীর পূজা সাধারণ পূজার নিয়মানুসারেই হয়। তবে এই পূজায় কয়েকটি বিশেষ উপাচার বা সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। যথা: অভ্র-আবীর, আমের মুকুল, দোয়াত-কলম ও যবের শিষ। পূজার জন্য বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুলও প্রয়োজন হয়। লোকাঁচার অনুসারে, ছাত্রছাত্রীরা পূজার পূর্বে কুল ভক্ষণ করেন না। পূজার দিন কিছু লেখাও নিষিদ্ধ যথাবিহিত পূজার পর লক্ষ্মী, নারায়ণ, লেখনী-মস্যাধার (দোয়াত-কলম), পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রেরও পূজা করার প্রথা প্রচলিত আছে। এই দিন ছোটোদের হাতেখড়ি দিয়ে পাঠ্যজীবন শুরু হয়।পূজান্তে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের দল বেঁধে অঞ্জলি দিতে দেখা যায়।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে আড়ম্বরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলা শহরের সরকারি কেসি কলেজ, নুরুন্নাহার মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে ভিড় জমাতে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বলীরা। জ্ঞান লাভের আশায় মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। চলে হাতে খড়ি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও চলে পূজা। পূজা চলাকালীন সময় উলু ও শঙ্খ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে প্রতিটি পূজামণ্ডপ। শেষে ভক্তদের মধ্য বিতরণ করা হয় প্রসাদ। এ বছর জেলা শহরসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লায় ছোট-বড় অন্তত দেড় হাজার মণ্ডপে একযোগে এ সরস্বতী পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে।
কমেন্ট বক্স