৫ নারীর ব্যাগ থেকে টাকা চুরি, রোকসানা আটক
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০১-২০২০
ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবারও নারী চোর সিন্ডিকেট সক্রিয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বেড়েছে সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট। একই দিনে ৫ নারীর ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১১৭ নম্বর কক্ষের সামনে থেকে এ ৫টি চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোর সন্দেহে রোকসানা খাতুন (১৮) নামের এক যুবতিকে পুলিশের হেফাজতে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১১৭ নম্বর কক্ষে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে অসুস্থ বাচ্চাদের নিয়ে আসেন শিশুদের অভিভাবকেরা। এ সময় অভিভাবকদের মধ্য থেকে ৫ নারীর টাকা চুরি হওয়ায় আতঙ্কে ভুগছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় সর্দারপাড়ার খালেকের স্ত্রীর ব্যাগ থেকে ৭০০ টাকা, মেহেরপুর জেলার সোনাপুর গ্রামের মো. টিটিুর স্ত্রী লিপা বেগমের ব্যাগ থেকে ৪০০ টাকা, দামুড়হুদা উপজেলার দুর্গাপাড়ার আবু সাইদের স্ত্রীর ব্যাগ থেকে ৯১০ টাকা, আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটা গ্রামের টগর আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমর ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামরে বাগানপাড়ার রওশনের স্ত্রী পাপিয়ার ব্যাগ থেকে ২৫৭০ টাকা চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সক্রিয় মহিলা চোর সিন্ডিকেট। এসব চোরেরা হাসপাতালের অতিরিক্ত রোগীদের ভিড়ে রোগী সেজে অন্য রোগীদের গলার চেনসহ ভেনেটি ব্যাগ থেকে চুরি করে নিচ্ছে টাকা ও মোবাইল ফোন। এর পূর্বেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে রোগীদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ গলার চেন চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের এ চুরি ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা দুজন পুলিশ সদস্য কাজ করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না এসব চোর সিন্ডিকেটকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির জানান, ‘হাসপাতালে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। রোগীদের ভিড়ে চোরেরা সাধারণত রোগী সেজেই এসব চুরির ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। পুরো হাসপাতাল সিসি টিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকায় কখনো কখনো চোর শনাক্ত করা সম্ভব হয়, আবার কখনো চোর শনাক্ত করা গেলেও তাদের ধরা যায় না। হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ২ জন পুলিশ সদস্য কাজ করায় পূর্বের চেয়ে চুরির ঘটনা কমেছে। তবে আজ একই দিনে পাঁচ নারীর ব্যাগ থেকে টাকা চুরির ঘটনা আমাদের ভাবাচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে টাকা চুরির ঘটনায় এক যুবতিকে সন্দেহজনক আচরণের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে এর পূর্বেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দুজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকলেও এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে পুলিশের আর নিবিড় পর্যবেক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমেন্ট বক্স