রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পাঠকের খোরাক চুয়াডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০২-২০১৯ ইং
পাঠকের খোরাক চুয়াডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি
ফেরদৌস ওয়াহিদ: শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা। চুয়াডাঙ্গা সরকারি গণগ্রন্থাকারে পত্রিকা পড়তে দেখা গেল বেশ কয়েকজন পাঠককে। আবার এ’ র‌্যাক থেকে ও’ র‌্যাকে ঘুরে প্রয়োজনীয় বই খুঁজছেন কেউ কেউ। এদেরই একজন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ¯œাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমরান। সময়ের সমীকরণকে তিনি জানালেন, প্রায় প্রতিদিনই পড়াশুনা ও টিউশনির ফাঁকে লাইব্রেরিতে আসেন তিনি। তবে, বেশির ভাগ সময়ই পত্রিকা পড়তে আসা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অল্প সময় পাই, তাই লাইব্রেরিতে এসে বই পড়া হয় কম। ঠিক একইভাবে নিয়মিত লাইব্রেরিতে আসেন মাহফুজুর রহমান। পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি ম্যাগাজিন পড়তে পছন্দ করেন তিনি। আর এভাবেই পাঠকের খোরাক যুগিয়ে চলেছে জেলা শহরের শহীদ রবিউল ইসলাম সড়কের টিএন্ডটি মোড়ে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা সরকারি গণগ্রন্থাকার। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেল, দৈনিক দেড় থেকে দুইশ’ পাঠক সমাগম ঘটে চুয়াডাঙ্গা সরকারি গণগ্রন্থাগারে। বর্তমানে ৫,০৫০ বর্গফুট আয়তনের চুয়াডাঙ্গা সরকারি গণগ্রন্থাকারে একজন জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান, একজন অফিস সহায়ক ও একজন নাইটগার্ড কর্মরত রয়েছেন। এ লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ৭০ জন। একটি পাঠকক্ষে প্রায় ৩৬ হাজারের অধিক বিভিন্ন ধরণের বইয়ের পাঠক সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার জন। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ’ থেকে দুইশ’ পাঠক পাঠক এখানে নিয়মিত বই পড়ে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি পাবলিক লাইব্রেরির জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান জিয়ারুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা পাবলিক লাইব্্েররিতে স্থানীয় লেখকদের বইসহ বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য, আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, শিশু সাহিত্য, দর্শন, খেলাধূলা, বাণিজ্য, ধর্মীয়, ভ্রমণ কাহিনী, আত্মজীবনী, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের মোট প্রায় ৩৬ হাজার বই রয়েছে। এছাড়া পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয়, সাপ্তাহিক, মাসিক, চাকরির পত্রিকাসহ নিয়মিত ১৪টি পত্রিকা রাখা হয়। কোন শ্রেণির পাঠক বেশি আসে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে চাকরি প্রত্যাশী পাঠকই বেশি। নারী পাঠক তো খুব একটা বেশি হয়ই না। তিনি আরও জানান, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে জ্ঞানের আলো ছড়াতে চুয়াডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি বেশি ভূমিকা রাখছে। পাবলিক লাইব্রেরির একজন প্রবীণ পাঠক জানালেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত এই গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক। তিনি বলছেন, আগের মতো বইয়ের পাঠক এখন আর নেই। মোবাইল প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে পাঠক একটু কমেছে। আগের মতো মানুষ আর এখন আসে না। কথা হয় এই গণগ্রন্থাগারে আসা পাঠক মোস্তাফিজুর রহমান কাজলের সাথে। তিনি বলেন, মূল যারা পাঠক সেই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাই ক্লাসের পড়ার চাপে লাইব্রেরিতে এখন আসতে পারছে না। আর জাতীয়ভাবেই আমাদের পাঠের অভ্যাস কমে গেছে। ছেলেমেয়েরা সব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। গণগ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক জানান, অন্যান্য জেলাগুলোর চেয়ে চুয়াডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরিতে পাঠক সমাগম অনেক। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টায় লাইব্রেরি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত প্রায় সব সময়ই পাঠক সমাগম থাকে। তবে, লাইব্রেরির পিছনে একটি কাঠের দুর্বল দরজা রয়েছে, যা দিয়ে খুব সহজেই চুরির আশঙ্কা রয়েছে। এটি ক্লপসেবুল গেট নির্মাণ করলে এ চুরির আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। এছাড়াও দিনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। যার ফলে পাঠকক্ষের মধ্যে অন্ধকারে পাঠকদের বই পড়তে বাধা সৃষ্টি করে। যদি এখানে সোলার স্থাপন করা হয়, তাহলে এখানে আরও পাঠক সমাগম ঘটবে বলে জানান তিনি।


কমেন্ট বক্স