নির্ধারিত সময়ে তালিকা দিতে ব্যর্থ ইউপি চেয়ারম্যান : ইউএনও’র প্রশংসনীয় উদ্যোগ বেগমপুরে ২০৪টি ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন ১৮৯৭ ওয়াসিম রয়েল, দর্শনা: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিবসহ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের তালিকা দিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের তালিকা দিতে নির্দেশ দেন ইউএনও। এর মধ্যে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ভাতার কার্ডের তালিকা প্রণয়নের কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সদর উপজেলা অফিসে জমা দেন। কিন্তু একই উপজেলার বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয় তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়। তালিকা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বার বার তাগিদ দিলেও বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয় তাদের জমা দেননি। তালিকা না পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের প্রাপ্ত ভাতার কার্ড পৌছে দিতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে বেগমপুর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামে মাইকিং করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াটায় ইউনিয়নের কোটালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলে। এরপর গতকাল সকাল থেকে কোটালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিয়নের ১৯ গ্রামের কয়েক হাজার বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবারা সমাজসেবা অফিসের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। উপজেলার পক্ষে সমাজসেবা এই কাজ করায় স্থানীয়রাসহ সবমহল সাধুবাদ জানান। কিন্তু গতকাল কাগজপত্র গ্রহনকালীন সময়ে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও ইউপি সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের ভাতার কার্ডের তালিকা প্রণয়নের কাজে অত্র ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের চুপ থাকায়, বেজায় চটেছেন কার্ডের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে আসা কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য, আমরা গরীব মানুষ, আমরা যদি সরকারি সাহায্য পেয়ে একটু ভালো থাকি, সেই চেষ্টা আমাদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা করবেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কেউ এই কাজে ইউএনও স্যার ও সমাজসেবা অফিসকে সাহায্য করছেন না। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মৌমিতা পারভীন বলেন, সরকারি নিয়মানুযায়ী ভাতা প্রদানের জন্য বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে গত নভেম্বর মাসে লিখিতভাবে ২৪ জন বিধবা, ৬০ জন প্রতিবন্ধী ও ১২০ জন বয়স্ক ব্যক্তির তালিকা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে এর সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে নির্বাচন শেষে এ কার্যক্রম দ্রুত করণের জন্য সকল ইউনিয়ন পরিষদে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়। এর এক পর্যায়ে ৭টি ইউনিয়নের ৫টি ইউনিয়নের তালিকা সম্পন্ন হলেও উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন ও তিতুদহ ইউনিয়ন এ ভাতা প্রদানের তালিকা প্রস্তুত করতে পারেনি। বার বার তাগিদ দেওয়ার পর এ ২টি ইউনিয়নের ধীরগতির কারণে ভাতা প্রদান কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহন করে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ১৮৯৭ জনের কাগপত্র জমা নিয়েছি। এর মধ্যে যাচায়-বাছাই হবে। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে আবারও যাচায়-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে যারা এ সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তাদের মধ্যে এ ভাতা প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে কোন ইউপি সদস্য ও অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলি হোসেন জোয়ার্দ্দার কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী জানান, ভাতা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিধিদের বার বার তাগিদ দেওয়া হলে উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন ও তিতুদহ ইউনিয়ন তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা এই প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম সমাপ্ত করার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। তবে বয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ বয়স, প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কার্ড ও ধরণ, বিধবাদের ক্ষেত্রে সর্বোদিক বিবেচনা করে এ ভাতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আমাদের লোক দিয়ে মাঠ পর্যায়ে যাচায়-বাছাই করে অতিদ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন