আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর চমক স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট : হাসপাতালে ভর্তি সমীকরণ প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গার কালিদাসপুরে চমক স্কুলে কবিতার ছন্দ লেখায় দুই শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহারের অভিযোগে উঠেছে শিক্ষক সিয়ামের বিরুদ্ধে। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবকমহল ও এলাকাবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্কুলে অভিযুক্ত শিক্ষক সিয়ামকে খোঁজাখুঁজি করে না পেলে স্কুলের সামনে অবস্থান নেয়। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ তাদেরকে শান্ত করলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এদিকে, এ ঘটনায় পুলিশ কিছুই জানেন না তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যেমে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি জেনেছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। আহত দুই শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার আলমডাঙ্গার ‘চমক মডেল স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র কালিদাসপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে টুটুল (১৪) ক্লাস শেষে তার বন্ধুর খাতায় লেখা একটি কবিতার ছন্দ পড়ছিল। এ সময় স্কুলের শিক্ষক সিয়াম এই ছন্দ পড়া দেখে ফেলায় টুটুলকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। হাতে, পায়ে ও পিঠে প্রচন্ড আঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে টুটুল। তার এমন পরিস্থিতি দেখে একই স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র আসাননগর গ্রামের আমজেদ আলীর ছেলে গাফফার তাকে তুলতে গেলে শিক্ষক সিয়াম গাফফারকেও বেধড়ক মারপিট করে। এতে দুই শিশু শিক্ষার্থী গুরুত্বর জখম হয়। খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তারা আরও বলেন, পূর্বে চমক মডেল স্কুলের নাম ছিল চমক কোচিং সেন্টার। প্রথমে কলেজপাড়া ও পরে আলমডাঙ্গা শহরের দারুস সালামের সামনের এক বিল্ডিং এ চমক কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ স্কুলটি পরিচালনা করে আসছেন শিক্ষক মাসুদ পারভেজ। ইতোমধ্যে মাসুদ পারভেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এতে চমক কোচিং সেন্টারের নাম পরিবর্তনপূর্বক চমক মডেল স্কুল নামকরণ করে কালিদাসপুরে স্থানান্তরিত করেন। সম্প্রতি কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চমক মডেল স্কুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জব্দ করেন প্রতিষ্ঠানের খাতাপত্র। একই সাথে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর নির্দেশ দেন। অবৈধভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের কয়েকদিন পর আবারও চমক মডেল স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন অভিযুক্ত শিক্ষক সিয়ামের উপর। তারা উত্তেজিত হয়ে স্কুলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক সিয়াম সটকে পড়ে। পরে তাকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা স্কুলের সামনে জড়ো হতে থাকে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা এসে তাদেরকে শান্ত করলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন