প্রধান সড়কে চলছে অবৈধ ট্রাক্টর : বাড়ছে দূষণ
- আপলোড তারিখঃ
১২-০১-২০১৯
ইং
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি (আলমডাঙ্গা): আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়াভাবে চালানো হচ্ছে অবৈধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। ট্রাক্টর কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ক্ষেত খামারে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আলমডাঙ্গার সড়কের প্রধান বাহন। উপজেলার সংযোগ সড়কগুলো এখন সড়ক নয় যেন কাঁদা ও ধুলায় চাষের জমি। প্রশাসনের সামনেই বেপরোয়াভাবে বিকট শব্দে বালুমাটি বোঝাই নিয়ে সাদা পাউডারের মত ধুলো উড়িয়ে এবং কাঁদা ছিটিয়ে দাবিয়ে চলছে ট্রাক্টরগুলো। এনিয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া, আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন বিভিন্ন পুকুর ও কৃষি জমি থেকে মাটি বোঝাই করে ট্রাক্টর দিয়ে বাড়ির ভিটা উচুকরণ ও ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য ডিসি সড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলোর উপর দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। এর ফলে কাঁচা ও পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য নির্মিত রাস্তায়ও একইভাবে অবৈধভাবে ভাটার কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরের আনাগোনায় মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়কের চলাচলের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সকল সড়ক দিয়ে কোমলমতি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দিনের বেলার সূর্যের আলোয় পিচ্ছিল মাটি ট্রাক্টরের বড় চাকায় পিষ্ট হয়ে ধুলার সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাটি বোঝাই নিয়ে প্রতিদিন ১০০/১৫০টি ট্রাক্টর বিকট শব্দে বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় আলমডাঙ্গা পৌর শহরের আনন্দধাম, লালব্রিজ, ও স্টেশন এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪/৫টি ভাটা থাকায় অবাধে তীব্র গতিতে মাটি ভর্তি ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাক্টর আসতে রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা দিলে তারা ক্ষমতাশীল দলীয় নেতাকর্মীদের দিকে তীর ছোড়ে। এমনকি চুয়াডাঙ্গা সার্জেন্ট অফিসারদের নিকট মাসোহারা দিয়ে অবাধে চলাচলের মৌখিক অনুমতি পেয়ে থাকে। এই সকল যানবহনের কারণের জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জের রেললাইনের আপ-ডাউনের ট্রেন চলাচলের কারণে তীব্র ঢাকা শহরের মত যানজট সৃষ্টি হয়। এতটাই যানজট বাধে রাস্তা ফাকা হতে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা লেগে যায়। ট্রাক্টরের বেপরোয়াভাবে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অটোরিক্সা, পিকআপ, অটোভ্যানসহ অন্য ছোট যানবাহন। এই সকল সড়ক দিয়ে ট্রাক্টর ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য জানান, সূর্যের আলো থাকার পরও রাস্তায় আশপাশ এলাকা ট্রাক্টরের সৃষ্ট ধুলায় কুয়াশার মতো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর ধুলোর মধ্যে দিয়ে চলাচল করায় সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে আসা সকল শিক্ষার্থী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। রাস্তাঘাটে যাতায়াতের সড়কটি এখন ট্রাক্টরের দখলে। বাড়াদী ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, যাত্রীবাহী গাড়ীর চালকরা বন্ডবিল থেকে মাদারহুদা সড়ক দিয়ে আসতে চায় না, কারণ তীব্র ধুলা আর দ্রুতগামি চালকের তৎপরতায় অনেকটাই জীবননাশের সামনে থাকার মত। এরই ফলে ঝুঁকি নিয়েই মাঝে মধ্যে সাইকেল অথবা ভ্যানে শহরে যাতায়াত করে।
এই ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান জানান, সবাইকে নিয়মের মধ্যে আসতে হবে। খুব দ্রুত অবৈধভাবে যে সকল মাটি ভর্তি ট্রাক্টর রাস্তায় দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স