জীবননগরে বিএনপি কর্মির বাড়ীতে আগুন : আতঙ্ক
- আপলোড তারিখঃ
২৮-১২-২০১৮
ইং
জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে বিএনপি কর্মির বাড়ী-ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে ভস্মীভূত করেছে। গত বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার দিনমজুর কৃষক ফজলুল হকের দু’ছেলে বাবু (৪০) ও আনোয়ার হোসেন (৩৭) বিএনপির কর্মি হিসাবে এলাকায় পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পরপরই তাদের উপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিরা বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যারফলে তারা হামলা-মামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত বুধবার গভীর রাতে কে বা কারা তাদের বাড়ীতে আগুণ দিলে ঘরের ভিতরে থাকা নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত আসবাবপত্র ও ব্যবহৃত কাপড় চোপড় পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের গৃহবধূ শিল্পী খাতুন জানান, আমার স্বামী বাবুসহ আমাদের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এলাকায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদেরকে ভোট না করার জন্য আওয়ামী লীগের লোকজন নানাভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিল। আমার স্বামী ও দেবর আনোয়ার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের হুমকি ধামকী আর পুলিশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমি নিজেও নিরাপত্তার অভাবে সারাদিন বাড়ীতে থাকলেও রাতের বেলা আমার মামা শ্বশুর রবিউলের বাড়ীতে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকি। বুধবার রাত অনুমান দুইটার দিকে দেখতে পায় আমাদের ঘরে আগুন জলছে। আগুণে এনজিও থেকে তোলা ৩২ হাজার টাকা এবং সমিতির ২৫ সদস্যের গচ্ছিত আরো ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা মোট ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা, একটি এলইডি টিভি, বাক্স, গ্যাসের চুলা, আলনা, ড্রেসিং টেবিলসহ ঘরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে গিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা রাতে বাড়ীতে না থাকার কারণে বাড়ির বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ থাকে। দুর্বৃত্তরা ঘরের ভিতরে পেট্রোল ঢেলে আগুণ ধরিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।
ফজলুল হক বলেন, আমি ঘটনার রাতে ঘরের বারান্দায় শুয়ে ছিলাম। ওই রাত অনুমান দুইটা হবে, এমন সময় দু’জন লোক আমার ছেলে বাবুর ঘরে ওঠে। আমি মনে করি আমার ছেলের বউ-ছেলেরা। পরে ওই দু’জন ঘর থেকে নেমে যাওয়ার কিছুক্ষন পর ঘরের ভিতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে আগুণে ঘরের সমস্ত মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে যায়। মামলা করেছে কি না বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা করে আর কি হবে। যা হবার তাই হয়েছে মামলা করলে উল্টো আবার আমাদের নামে মামলা হবে।
বাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন ফরজ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের সাথে তাদের কোন বিরোধ নেই। তাদেরকে হুমকি ধামকী দেয়ার কথাও ঠিক নয়। বাবুর স্ত্রী মূলত বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে ঋণে জর্জরিত। সে এনজিও হতে লোন নিয়েছে। পাওনাদারদেরকে ঠেকিয়ে রাখতে নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুণ দিয়ে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের ওপর দোষ চাপানোর পাঁয়তারা করছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়া বলেন, বাঁকা গ্রামের ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তাছাড়া এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট বক্স