শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দরিদ্র মেধাবী ছাত্রী মেডিকেল কলেজে ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর হল ইসরাতের

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-১২-২০১৮ ইং
দরিদ্র মেধাবী ছাত্রী মেডিকেল কলেজে ভর্তির অনিশ্চয়তা দূর হল ইসরাতের
পাশে দাঁড়ালেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিনেমা হলপাড়ার হামিদুল ইসলামের মেয়ে ইসরাত জান্নাত। তার বাবা একজন সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দরিদ্রতাকে জয় করেছেন পরিবারের অদম্য মেধাবী ইসরাত জান্নাত। শত কষ্টের মাঝেও পড়াশুনা চালিয়ে সে এবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (ডেন্টাল ইউনিটে) ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অভাবী পরিবারের মেয়ে ইসরাত জান্নাতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তাঁর মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। চরম দারিদ্র্য কোনভাবেই থামাতে পারেনি তার অদম্য ইচ্ছা ও তার মেধাশক্তিকে। তবে মেডিকেলে কৃতিত্বের সঙ্গে ভর্তির সুযোগ পেয়েও এখন তার স্বপ্ন দারিদ্র্যের অভিশাপে দুঃস্বপ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কিন্তু বর্তমানে শারিরীক অসুস্থ্যতার কারণে কোন কাজকর্ম করতে অপারগ হওয়ায় তার পরিবার মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনার ব্যয়ভার গ্রহণে অসমর্থ। এমতাবস্থায় তার মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন প্রায় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ইসরাতের মেডিকেলে ভর্তি ও পড়াশোনার ব্যয়ভার বহনে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন ও ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। গতকাল তিনি তার কার্যালয়ে ইসরাতের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। পরে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস ইসরাত জান্নাতের ভর্তির জন্য নগত ১০ হাজার ৫শ’ টাকাসহ তার পড়াশোনার দায়িত্ব তুলে নেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক টাকা আমরা বিভিন্ন ভাবে খরচ করে ফেলি। দরিদ্র মেধাবীদের পাশে এগিয়ে আসা দরকার। যাতে করে ভবিষ্যতে মানুষ হতে পারে তারা। মেয়েটির পাশে থাকবো আমি। জেলা প্রশাসকের হাত থেকে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়ে ইসরাত জান্নাত আবেগে আপ্লুত হয়ে যান এবং জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইসরাত জান্নাত চুয়াডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। শিক্ষার উন্নয়নকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। অদম্য মেধাবীদের সহায়তা ও শিক্ষার মানউন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার লক্ষ্য, অর্থের অভাবে যেন কারো লেখাপড়া বন্ধ না হয়। ইতিপূর্বে অনেক শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ইসরাত জান্নাতের পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস।


কমেন্ট বক্স