প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ও ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ কর্মসূচি স্থগিত
- আপলোড তারিখঃ
০৮-১১-২০১৮
ইং
জেগে রইল আশা : আবারো সংলাপের ইঙ্গিত
ডেস্ক রিপোর্ট: সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেওয়াসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উত্থাপিত নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা গতকাল বুধবারের দ্বিতীয় দফা সংলাপে সরকারপক্ষ নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় দিনের সংলাপ পুরোপুরি সফল হয়নি, এ কথা বলতে চায় না কোনো পক্ষ। সব পক্ষই মনে করছে, সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বরং সংলাপের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক স্বস্তির সুবাতাস উঠেছিল দেশে, সেই স্বস্তি স্থায়ী হওয়ার আশাবাদ জেগে রইল দ্বিতীয় দফায়ও। কারণ ঐক্যফ্রন্ট আবারও তাদের দাবি নিয়ে আলোচনা চেয়েছে। আওয়ামী লীগও বলেছে, সংলাপ শেষ হলেও আলোচনা হতে পারে। এদিকে, সব রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শেষে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা থাকলেও তা হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আজকে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি থাকলে সেটাও হঠাৎ করেই স্থগিত করেছে ঐক্যফ্রন্ট। এতে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আবারো সংলাপ হতে পারে।
নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেনের উত্থাপিত প্রস্তাব গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানের বাইরে তিনি যেতে পারবেন না। সংসদও আগে ভাঙা সম্ভব নয়। সরকার পদত্যাগও করবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের দাবি উত্থাপন করে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, সরকারপক্ষ আদালতে বিরোধিতা না করলেই তাঁর জামিন সম্ভব। এটি আদালতের বিষয় বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তিনি যদি আপিল করেন, আদালত যদি তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন, আমাদের আপত্তি নেই।’
ঐক্যফ্রন্ট মূলত পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আদলেই একজন প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। আর ওই প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার অর্থ শেখ হাসিনা আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।
জানা গেছে, উত্থাপিত ওই প্রস্তাব নিয়ে পরে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বাইরে সরকার গঠিত হলে তৃতীয় কোনো শক্তি ঢুকে পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত এক-এগারো সরকারের কথা স্মরণ করেন। এমন অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী ইশতেহারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেননি। অথচ পরে ক্ষমতায় এসে বাতিল করে দিলেন।’ এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার কথা ছিল, সংলাপে এ কথাও উল্লেখ করেন ড. কামালসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তবে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের বাইরে না যাওয়ার প্রশ্নে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনে আসুন; সুষ্ঠু নির্বাচন করে আমি দেখিয়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক কোনো অভিসন্ধি নিয়ে কাজ করি না। জনগণ ভোট দিলে থাকব। আপনাদেরকে ভোট দিলে আপনারা জিতবেন।’
তবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, নূন্যতম একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে কী করে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব? সংলাপে নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাও নাকচ করে দেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, তফসিল ঘোষণা করেও পরে তা পেছানোর ইতিহাস এ দেশে আছে। দ্বিতীয় দফা সংলাপ গতকাল সকালে গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জন এবং ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ নেতা অংশ নেন। গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সংলাপে সাত দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে ঐক্যফন্ট; যার মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনসহ বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ আরো দাবি ছিল। আর গতকালের সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেয় ঐক্যফ্রন্ট।
কমেন্ট বক্স