শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১১-২০১৮ ইং
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ
সংলাপে দাবি আদায় না হলে রোডমার্চ ডেস্ক রিপোর্ট: খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ ৭ দফা দাবি না মানলে সরকারকে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর অংশ হিসেবে আগামী ৮ নভেম্বর রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর সমঝোতার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার যদি আগামীকাল (আজ) সংলাপে আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মেনে না নেয়, তাহলে আগামী ৮ নভেম্বর রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করব রোড মার্চ করে। রাজশাহীতে ৯ নভেম্বর জনসভা হবে। রাজশাহীর পর খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ঐক্যফ্রন্ট জনসভা করবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করতে চায় তাহলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা হবে। এরপর আমরা আরো কর্মসূচি ঘোষণা করব। সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিুবুর রহমান খোকা, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, এলডিপি মহাসচিব রেদওয়ান আহমদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রকিব প্রমুখ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সমস্যার সমাধান হোক, জনগণ মুক্তি পাক। কিন্তু এটা নিয়ে নাটক করলে চলবে না। সংসদ বাতিল করতে হবে। ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আশা করব, আপনাদের (সরকার) শুভবুদ্ধির উদয় হবে, জনগণের স্বার্থে ৭ দফা দাবি মেনে নেবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মালিক কোনো মহারানী নন, মালিক জনগণ। জনগণের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীনভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা দেশের মালিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকব। সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে। সরকারের কথার এক পয়সার দামও নেই। সেটা গত ৫ বছরে প্রমাণিত হয়েছে। সংবিধান ষোলোআনা উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়রানি করছে, তা মহা-অপরাধ। হয়রানি বন্ধ করতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা চলতে দেয়া যায় না। আমাদের বাঁচার উপায় হলো জনগণকে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। এ জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা কোনো ব্যক্তির রাষ্ট্র নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এটা আমাদের দাবি। আমাদের অধিকার আমরা আদায় করব। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আ স ম আবদুর রব বলেন, এই লড়াই মুক্তির লড়াই, এই লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। ৭ দফা দাবি মেনে নিন। তা না হলে আপনার উপায় নেই। আর গায়েবি করবেন না, কাউকে গ্রেপ্তার করবেন না, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দিন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। কারণ শেখ হাসিনার হাত থেকে আমাদের মুক্তি কবে, সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার দরকার নেই। কারণ, তিনি জেলে গিয়ে জননেতায় পরিণত হয়েছেন। ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দীর মাঠে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। আজ এ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হবে। গণতন্ত্র মুক্তির পথ উন্মুক্ত হবে। তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা রাজাকারের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছে। এই অভিযোগ সত্য নয়। আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকার নুরুর গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে। রাজাকার মহিউদ্দিন, আশিকুর রহমানের গাড়িতেও আওয়ামী লীগ পতাকা তুলে দিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে যোগ দেইনি। ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি। জিততে হলে জয় আপনাদের হাতে। হারতে চাইলেও তা আপনাদের হাতে। শেখ হাসিনা কিছু করতে পারবেন না। নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ভুলে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে হিমাদ্রীর মতো সোজা হয়ে দাঁড়ান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লমা শফীর সঙ্গে বসেন, সমাবেশ করেন, আমি কাদের সিদ্দিকী শাপলা চত্বরের রক্তের দাগ ভুলিনি। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বুধবার যে সংলাপ হবে, সে সংলাপে শুধু মুখে নয়, লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে। কারো নামে মিথ্যা মামলা দেয়া যাবে না, গ্রেপ্তার করা যাবে না। গত ১ নভেম্বরের সংলাপে রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মির্জা ফখরুলের কাছে তালিকা চেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন একদিকে, অন্যদিকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য লড়াই করব, তার জন্য জীবন দেব, তাকে মুক্ত করে ছাড়ব।


কমেন্ট বক্স