বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদার হোগলডাঙ্গার পল্লী পশু চিকিৎসক জিল্লুর আত্মহত্যার ঘটনা

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৭-২০১৮ ইং
দামুড়হুদার হোগলডাঙ্গার পল্লী পশু চিকিৎসক জিল্লুর আত্মহত্যার ঘটনা
প্রেমিকা রিক্তার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হওয়ায় আত্মহত্যা দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদা উপজেলা হোগলডাঙ্গা গ্রামের পল্লী পশু চিকিৎসক জিল্লুর রহমান (৩৫) দীর্ঘ দেড় বছরের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যা করেছে। প্রেমের অভিনয় করে আড়াই লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালঙ্কাসহ মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর পরিবার অন্য জায়গাই বিয়ে ঠিক করলে সেই বিয়েতে রাজী হওয়ায় অভিমান করে বিষপান করে জিল্লু। পরে তিনদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা যান জিল্লু। ওই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দামুড়হুদার হোগলডাঙ্গা গ্রামে। মৃত্যু জিল্লু হোলডাঙ্গা গ্রামের মাঝপাড়ার মৃত রুহুল আলীর ছেলে। গত শনিবার দুপুরে রিক্তার চাচা আরজ আলী ও প্রতিবেশি ইনছান জিল্লুর বাড়িতে গিয়ে কোন মামলা না করে কিছু টাকা নিয়ে মিমাংসা করার কথা বলেছে। জিল্লুর স্ত্রী সাবানা খাতুন ও চাচা ওমর আলী জানায়, দামুড়হুদা উপজেলার হোলডাঙ্গা গ্রামের মাঝপাড়ার মৃত রুহুল আলীর একমাত্র ছেলে দুই সন্তানের জনক জিল্লুর রহমানের (৩৫) সাথে প্রায় দেড় বছর আগে থেকে একই গ্রামের পাশের বাড়ির মসলেম উদ্দিনের অর্নাস পড়ুয়া মেয়ে রিক্তা খাতুনের সাথে পরকিয়া প্রেম জড়িয়ে পড়ে জিল্লু। প্রেমের অভিনয় করে রিক্তা জিল্লুর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। গত শনিবার দুপুর ২টার দিকে রিক্তার চাচা আরজ আলী ও ইনছানকে মিমাংসার জন্য জিল্লুর বাড়িতে পাঠায় কোন মামলা না করে কিছু টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত নিয়ে মিমাংসা করার জন্য। এর আগে মাস দেড়েক আগে জিল্লু রিক্তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। রিক্তা বিয়ে করতে রাজি না হয়ে সে বিভিন্ন টালবাহানা ও গহনার দাবী করে। জিল্লু তখন রিক্তাকে লক্ষাধিক টাকার গহনা বানিয়ে দেয়। এরই মাঝে রিক্তার পরিবার তার বিয়ে ঠিক করে রিক্তার খালাতো ভাই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পীরপুর গ্রামের জিনার আলীর ছেলে নাজমুলের সাথে। তাতে রাজিও হয় সে। ক্রমেই তাদের পরকিয়া প্রেমে বাড়তে থাকে দূরত্ব। শুরু হয় মান অভিমান। গত ৫ জুলাই বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে রিক্তা জিল্লুকে চুয়াডাঙ্গা ছাগল ফার্মের নিকট ডেকে নেয়। সে সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকে বর্তমান রিক্তার স্বামী নাজমুলসহ তার কয়েক সহযোগী। তখন জিল্লু ছাগল ফার্মের কাছে গেলে নাজমুলসহ তার দলবল জিল্লুকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও বেশকিছু টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর গত ৮ জুলাই রোববার বিকাল ৫টার দিকে জিল্লু রিক্তাদের বাড়ী যেয়ে তার দেওয়া গহনা ও টাকা ফেরত চায়। এসময় রিক্তাসহ তার মা, নানি তাকে ঘরে আটকিয়ে মারধর করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। এতে জিল্ল অভিমান করে পরদিন সোমবার বিকাল ৩টার দিকে গ্রামের মাঠে গিয়ে ঘাষ মারা বিষপান করে। পরে বাড়ী এসে তার স্ত্রী সাবানা খাতুনকে বলে আমি বিষ খেয়েছি। তাকে দ্রুত দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী নেয়ার পরামর্শ দেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিল্লুকে বাড়ী ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে রাজশাহী থেকে বাড়ি নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পথিমধ্যে মারা যান জিল্লু। তার মরদেহ বাড়ি নেয়ার পর শুরু হয় শোরগোল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর পুনরায় জিল্লুর মরদেহ নেয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। শুক্রবার বাদ মাগরিব নামাজের জানাজা শেষে তার দাফন কাজ শেষ হয়। ওই ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি সুকুমার বিশ্বাস। এদিকে, প্রেমিকা রিক্তার গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপনে খালাত ভাই নাজমুলে সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় তার পরিবার।


কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩টি পুকুর বেদখল