বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দুর্নীতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর হতে হবে

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৭-২০১৮ ইং
দুর্নীতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর হতে হবে
জাল-জালিয়াতি-দুর্নীতি-নৈরাজ্যের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে যে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে, তা থেকে উত্তরণে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ জরুরি। কী হতে পারে সেসব পদক্ষেপ- এ বিষয়ে নানা পরামর্শ বেরিয়ে এসেছে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রেখেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংকিং খাতে জাল-জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে যেসব অর্থ বেরিয়ে গেছে, সেসব ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। ঋণের সুদহার কমাতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরারও পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। আর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর হতে বলেছেন তারা। তাদের এসব বক্তব্য বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের যে অবস্থা তাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে হলে এ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বস্তুত আমাদের ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা রোধ করতে হলে এ খাতে সংস্কারের বিকল্প নেই। যথাযথ সংস্কার হলে এ খাতে বিদ্যমান সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে সংকট চললেও বিগত কয়েক বছরে এ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ খাতে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসবের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে। এ খাতে অরাজকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। বুধবারের বৈঠকে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সময়োপযোগী সুপারিশ করতে একটি ব্যাংকিং খাত সংস্কার কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন বক্তারা। আমরাও মনে করি, এ ধরনের একটি কমিশন গঠিত হলে তা ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের ব্যাংকিং খাত সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে। এ খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করে চলতে হবে। ব্যাংকগুলো যাতে আবারও কোনো সংকটে না পড়ে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। এ খাতে সৎ ও যোগ্য লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। বস্তুত অসৎ ব্যাংকারদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্রই ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে। ব্যাংকগুলোয় বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রাস করে ফেলছে। আরও উদ্বেগজনক, এ দুর্নীতিবাজদের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে না। আজ সময় এসেছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করার। এ লক্ষ্যে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে একে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।


কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩টি পুকুর বেদখল