পলিথিনের বিকল্প চালু হোক
- আপলোড তারিখঃ
০৮-০৭-২০১৮
ইং
নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এমন কোনো দিন নেই যেদিন আমরা পলিথিন ব্যবহার করি না। মাছ, তরকারি, ফলমূল থেকে শুরু করে ছোটখাটো প্রায় সব কেনাকাটায় পলিথিন যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এ পলিথিন যে পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না, জানলেও তাতে গুরুত্ব দিই না। তাই অবলীলায় আমরা পলিথিন ব্যবহার করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতা কারও মধ্যে নেই কোনো সচেতনতা। পলিথিনের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় ২০০২ সালে এর উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬-এর ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ঘোষণা বলবৎ করা হয়। একই বছরের ৮ নভেম্বর সরকার কর্তৃক একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিস্কুট, চানাচুরের মোড়ক হিসেবে পলিথিন ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়। এ আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে, তবে তার শাস্তি হবে ১০ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-। আর কোনো ব্যক্তি যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সামগ্রী বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন, গুদামজাত, বিতরণ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে, তবে সে ক্ষেত্রে তার শাস্তি ছয় মাসের কারাদ- বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ই প্রযোজ্য হতে পারে। তারপরও আইনের প্রতি যেন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই আমাদের। নিজেদের অজান্তেই আমরা পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। পলিথিন এমন একটি পদার্থ যা শত শত বছর পড়ে থাকলেও মাটির সঙ্গে মেশে না। নগর জীবনে পলিথিনের নেতিবাচক দিক ব্যাপক। যত্রতত্র পলিথিন ফেলার কারণে তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় এবং নালা-নর্দমাগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর রাস্তাঘাট। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দেখা দেয় ব্যাপক সমস্যা। বহু বছর ধরে পড়ে থাকা পলিথিন আস্তে আস্তে মাটিচাপা পড়ার পর সেখানে বিল্ডিং তৈরি, টিউবওয়েল স্থাপন, এমনকি কৃষিকাজ করাও দুরূহ হয়ে পড়ে। পলিথিন পুড়িয়ে ফেললেও এর ক্ষতিকর দিক থেকে রেহাই নেই। কারণ পলিথিন পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন হয় কালো ধোঁয়া, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাছাড়া পোড়ানোর সময় সৃষ্ট কার্বন কণা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করে নানা রোগব্যাধি। আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই তাহলে দেখতে পাব ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে সারা দেশে বন্যা হলে যত্রতত্র ফেলা পলিব্যাগ পয়োনিষ্কাশনসহ পানি সরে যাওয়ার পথে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। তৎকালীন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়। এরপরই সরকার এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আইন থাকা সত্ত্বেও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে পলিথিন নামক ক্ষতিকর পদার্থটি অবলীলায় ব্যবহার করে যাচ্ছি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান এক ধরনের পলিমার আবিষ্কার করেছেন, যা পচনশীল এবং তা উৎপাদিত হয় পাট থেকে। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ পলিমার সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন করলে তা পলিথিনের চেয়েও সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে। আমরা আশাবাদী, অচিরেই পাট থেকে উৎপাদিত এ পলিমার বাজারে পাওয়া যাবে এবং সবাই পরিবেশের শত্রু পলিথিন বর্জন করে পাটের ব্যাগ/পলিমার ব্যবহার করবে।
কমেন্ট বক্স