প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর সিদ্ধান্ত : কেন্দ্রের ২’শ মিটারের মধ্যে কাউকে মোবাইলসহ পাওয়া গেলে গ্রেফতার
- আপলোড তারিখঃ
০৮-০৩-২০১৮
ইং
থাকছে না অভিন্ন প্রশ্নপত্র : পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের পর সেট নির্ধারণ
ডেস্ক রিপোর্ট: সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনমতো ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেবে। এ ছাড়া কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে পরীক্ষার ঠিক আগে। কোনও শিক্ষক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতে পারবেন না। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাতেই এই পরিবর্তনগুলো আনতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করা বা কেন্দে মোবাইল ব্যবহার বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তগুলো বহাল থাকবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যামিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ তথ্য জানান।
সচিব বলেন, ‘সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসছি। বোর্ডগুলো নিজেদের মতো করে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারবে। তবে প্রশ্নপত্রের কোন সেটে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার রুমে প্রবেশের আগে নির্ধারিত হবে না। তারা রুমে ঢোকার পরে নির্ধারণ করা হবে কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব বোর্ডের জন্যই এটা করা হবে। দেখা যাবে একেক বোর্ডে একেক সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার আগের চেয়ে বেশি সেট প্রশ্ন ছাপানো হবে। আর কেন্দ্র সচিবকে প্রশ্নের সেট কোড জানানো হবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২০ মিনিট আগে। এ ছাড়া, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে বিশেষ প্যাকেটে কেন্দ্রে পৌঁছানোর সিদ্ধান্তসহ আরও বেশকিছু সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার জন্য বেশকিছু প্রশ্নপত্র ছাপাও হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তিন থেকে চার সেট প্রশ্নপত্র শিগগিরই ছাপা হবে।
প্রশ্নপত্র ছাপার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘কিছু প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে ধীরে ধীরে বাকি প্রশ্নপত্রগুলোও ছাপানো হবে। ২০/২৫ লাখ প্রশ্নপত্র একসঙ্গে ছাপানো বাংলাদেশের কোনও প্রেসের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই পর্যায়ক্রমে এগুলো ছাপানো হচ্ছে।’ প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়।
এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্তে অটল থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করে তার আসনে বসতে হবে। কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কাউকে মোবাইলসহ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার বা আটক করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেবে। তবে ক্যামেরাবিহীন একটি মোবাইল ফোন থাকবে কেন্দ্র সচিবের হাতে। এ বিষয়ে সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে হলে প্রবেশ না করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনের সিদ্ধান্তও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে বর্তমান সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্যতম সুপারিশ হলো বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া। এর উদ্দেশ্য ছিল, এক বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হলে এর জন্য অন্য বোর্ডের পরীক্ষায় প্রভাব পড়বে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়। তবে গত বছর শিক্ষাবিদদের সুপারিশে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সমতার ভিত্তিতে মেধার সঠিক মূল্যায়নে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
কমেন্ট বক্স