দামুড়হুদা উপজেলায় মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বারি রসুন-৩ জাতের চাষাবাদের ওপর কৃষক মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় জয়রামপুর শেখপাড়ায় কৃষক রুহুল আমীনের আমবাগানে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মসলার বাজার থাকলেও প্রতি বছর প্রায় ৯শত কোটি টাকার মসলা আমদানি করতে হয়। তিনি কৃষকদের বারি রসুন-৩ জাতসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, বাড়ির আশপাশের পতিত জমি ব্যবহার করে রসুন চাষ করলে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মোট ১শত ৯ প্রকার মশলা হয়, এর মধ্যে ৫০ প্রকার মশলা আমাদের দেশে চলে, এর মধ্যে ১৭টি মশলার চাষ আমাদের দেশে হয়। কিন্তু বেশি চাহিদা ৫টি মশলার। তিনি আরও জানান, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামীতে ৪৪ হাজার ৫শত জন কৃষককে পেঁয়াজ চাষে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে। যাতে আমাদের পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, কৃষি উপ-সহকারী সাইফুল ইসলামসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মাঠ দিবসে বারি রসুন-৩ জাতের চাষাবাদ পদ্ধতি, অধিক ফলন নিশ্চিত করার কৌশল এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষকদের হাতে-কলমে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং উন্নত জাতের মসলা চাষে আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখা হয়।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা