আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ায় আম ও লিচু বাগানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের একটি আম-লিচু বাগানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের একটি আম ও লিচু বাগান পরিদর্শন ও কাঁটাতারের বেড়া মেরামতের উদ্দেশ্যে মো. শহিদুল ইসলাম (৫৫) তার সঙ্গীয় শাহিবুল (২৭), শাস্তি (৬৫) ও জুয়েলকে (২৫) নিয়ে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড, ফালা, ঝুপি, চাইনিজ কুড়াল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে শাহিবুল, শাস্তি ও জুয়েল আহত হন। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে স্থানীয় মো. মজিবুল (৩০) এগিয়ে এসে বাধা দিতে গেলে নিলু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। এতে তার মাথার ডান পাশের কানচুয়ালে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
অপর দিকে, মো. সাত্তার (৫০) সংঘর্ষ থামাতে গেলে কালু তাকে লক্ষ্য করে কোপ মারতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের তিনটি আঙুল কেটে যায় এবং হাতের কবজিতেও গুরুতর জখম হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের লোকজন ও গ্রামবাসী ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। গুরুতর আহত সাত্তারকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার হাতে একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে।
আহত মজিবুলকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মাথায় প্রায় ৩৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিবেদক হাটবোয়ালিয়া