বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মূল্যবান মালামাল চোরাই পথে বিক্রি : ঘটনা ধামাচাপা দিতে গুন্ডা ভাড়া : কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৩-২০১৮ ইং
মূল্যবান মালামাল চোরাই পথে বিক্রি : ঘটনা ধামাচাপা দিতে গুন্ডা ভাড়া : কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা
দর্শনা কাস্টমস গোডাউনে হরিলুট : ব্যাংকে নকল সোনা-রুপা জমা : প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে গাঁটপচা শাড়ী কাপড় প্রেরণ নিজস্ব প্রতিবেদক: দর্শনা কাস্টমস গোডাউনে লুটপাটের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। গোডাউন অফিসার শামীম সরকার কতৃক হরিলুটের বিবরণের তালিকা বাড়ছে ক্ষণে ক্ষণে। ব্যাংকে নকল সোনা ও রুপা জমা দেয়ার অভিযোগের প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে। আসল সোনা ও রুপা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় চোরাকারবারী সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে নকল সোনা-রুপা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে প্রেরিত ৬০০ পিস শাড়ী ও ৩২টি থ্রিপিস ছেড়া, ভেজা ও গাঁটপচা হওয়ায় তা ফেরত আসে। যা নবাগত গোডাউন অফিসারকে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া শামিম সরকারের বিরুদ্ধে গোডাউনের মূল্যবান মালামাল চোরাই পথে বিক্রির বিষদ অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় গুন্ডা ভাড়া করে বর্তমান গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রাণনাশের হুমকী ধামকীও দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর একাধিকবার যাচাই বাছাইয়ে সতত্য নিশ্চিত হলেও এখন পর্যন্ত কাস্টমস কতৃপক্ষ রহস্য জনক ভাবে নির্লিপ্ত রয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ০৫/০১/২০১৮ ইং তারিখে দর্শনা শুল্ক স্টেশনে গোডাউন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। পরদিন ০৬/০১/১৮ইং তারিখ হতে গোডাউনের মালামাল বুঝে নিতে শুরু করেন তিনি। মালামাল বুঝে নিতে গেলে দেখা যায় আটক প্রতিবেদনে পণ্যের বিবরণ এর সাথে দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তর তালিকায় পণ্যের বিবরণে অনেক পার্থক্য। সে হিসেবে মালামাল আটক প্রতিবেদনে পণ্যের বিবরণ অনুযায়ী- ভারতীয় শাড়ী ১০ পিস, থ্রীপিস ৮৬ পিস, পাঞ্জাবী ৩০পিস, ওড়না ২০পিস ও ইমিটেশন ৮ কেজি, মটরসাইকেলের ব্রেক সু (বড়) ১০০পিস, মটরসাইকেলের ব্রেক সু (ছোট) ৪০০পিস, মটরসাইকেলের ক্যাস প্লেট বড় ১৫পিস, ছোট ১৫পিস, পালসার মটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ১০পিস, হিরো হোন্ডা মটরসাইকেলের হ্যান্ডেল ১০পিস, ভারতীয় ম্যাংগো ড্রিংক ৪০টি, ভারতীয় সিরামিকের মূর্তি ৪৪টি, হরে কৃষ্ণ কাপড়ের ব্যাগ ১০টি, কাপড়ের তৈরী মুর্তির পোশাক ৮২টি, কাঠের তৈরী গলার মালা ৭০০টি, ভারতীয় এভন বাইসাইকেল নতুন (ছোট) ১টি, পুরাতন হারকুলেক্স বাইসাইকেল ১টি, টিবিএস বাইসাইকেল ১টি, ভারতীয় উন্নতমানের লেহেঙ্গা ১৯টি, উন্নতমানের ওড়না ৩১টি, উন্নতমানের বেল্ট ৭২টি, উন্নতমানের জর্জেট শাড়ী ২৩টি, সুতি শাড়ী ৭৭টি, সিনথেটিক ৭পিস, ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ী ২১৮পিস, ভারতীয় উন্নতমানের পাঞ্জাবী ৯৩পিস, উন্নতমানের চশমা ১১৫০পিস, ভারতীয় উন্নতমানের শার্টপিস ৩০টি, উন্নতমানের কাতান শাড়ী ১৪পিস, সিল্কশাড়ী ৬পিস, ভারতীয় উন্নতমানের শার্ট পিস ৩৮৫পিস, ভারতীয় উন্নতমানের গ্যাবাডিং প্যান্ট ৮টি, গেঞ্জি ২০৪টি, শাড়ী ৬০পিস ও ভারতীয় উন্নতমানের শার্টপিচ ২৯.৫ কেজি। যার বিপরীতে নবাগত গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে মালামাল বুঝিয়ে দেয়ার নামে তালবাহানা করা হয়। মালামাল বুঝে পেতে শামীম সরকারকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তিনি মালামাল বুঝিয়ে না দিয়ে উপরন্ত স্থানীয় গুন্ডা বাহিনী দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রাণ নাশের হুমকী ধামকী দিতে থাকেন। এ বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম তিন দফায় গত ০৩/০২/২০১৮ ইং, ২০/০২/১৮ইং ও ২৭/০২/১৮ ইং তারিখে কাস্টমস কমিশনার, যশোর বরাবর লিখিত ভাবে জানালে আজও পর্যন্ত এর প্রতিকার মেলেনি। এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শামীম সরকারসহ উর্দ্ধতন মহলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। যোগদানের পর থেকে গত ০৫ জানুয়ারি হতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গোডাউন অফিসার শামীম সরকার বিক্ষিপ্ত ভাবে মালামাল বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া তিনি মালামাল হস্তান্তরে অবহেলা করছেন এবং অনেক মালামাল জিআর মামলার তালিকা অনুযায়ী হস্তান্তর করছেন না বলে জানা যায়। এ বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সময়ের সমীকরণ’এ একটি সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তথ্য ভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও শামীম সরকারের বিরুদ্ধে এখনও কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। `` অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত স্বর্ণ-রুপার প্রকৃত পরিমাণ এবং তা প্রকৃত কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত স্বর্ণ ও রুপার সীটে স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানালে সবার সামনে নবাগত গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে খারাপ আচরণ করেন শামীম সরকার। এ ছাড়া খুলনা থেকে অফিসের কাজ শেষে দর্শনায় ফেরার পথে তার কাছ থেকে জোর করে সবার সামনে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয় বলেও জানা যায়। তাছাড়াও ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার শাড়ী ৭ হাজার ৭২২ পিস বুঝাতে গিয়ে সেখান থেকে উন্নতমানের শাড়ীগুলো বেছে বেছে পৃথক করে জিআর তালিকা উল্লেখ ছাড়া সাধারণ শাড়ী হিসেবে ১ হাজার ৪৯০পিস শাড়ী বুঝিয়ে দেয়া হয়। বাকী ৬ হাজার ২৩২ পিস শাড়ী আত্মসাৎ করে দর্শনার স্থানীয় এক চোরাকারবারীসহ ঢাকার এক লাগেজ পার্টির কাছে বিক্রি করে দেয়। শাড়ী কাপড় বুঝিয়ে দেয়ার সময় প্রতিদিনই উন্নতমানের শাড়ী আত্মসাৎ করেন; যার পরিমাণ প্রায় ৩০ বস্তা। এরমধ্যে ৬০০পিস শাড়ী ও ৩২পিস থ্রিপিচ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে পাঠানো হলে তা ছেড়া, ভেজা ও গাঁটপচা হওয়ায় ফেরত দেয়া হয়। যা পরবর্তীতে গোডাউনের সাধারণ মালামালের সাথে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। হরিলুটের মালামাল গোডাউনে না থাকায় দফায় দফায় গাফিলতি করছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে শামীম সরকারের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে মালামাল আত্মসাৎ করে তা স্থানীয় চোরাকারবারী সিন্ডিকেট, ঢাকার লাগেজ পার্টি ও চোরাই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তবে কারা এই চোরাকারবারী সিন্ডিকেট; কাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে সরকারি গোডাউনে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ? জানতে চোখ রাখুন দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র পাতায়।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার