বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে ইটভাটায় অবৈধভাবে পুড়ছে কাঠ : পরিবেশ বিপর্যয়!

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৩-২০১৮ ইং
জীবননগরে ইটভাটায় অবৈধভাবে পুড়ছে কাঠ : পরিবেশ বিপর্যয়!
জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: জীবননগরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি দখল করে গড়ে উঠছে ইটভাটা। উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পুড়ছে কাঠ। ফলে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে এবং শত শত হেক্টর কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়ছে। একটি সুত্রে জানা গেছে, প্রতি মৌসুমে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি গিলছে এসব ইট ভাটা। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা সাধারন মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জীবননগর উপজেলায় মোট ১৫টি ইট ভাটা রয়েছে যার মধ্যে ৫টি ইটভাটাতে রয়েছে ব্যারেল চিমনি যা সম্পুর্ণ অবৈধ। অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই অধিকাংশ লোকালয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় বেপারোয়াভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, কৃষি জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার হচ্ছে ইটের কাঁচামাল হিসেবে। ফলে একদিকে উর্বরতা হারিয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে কৃষি জমি। প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্দ্বিধায় চলা পরিবেশঘাতি এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহনের দৃশ্য চোখে না পড়লেও প্রশাসনের দাবি বেআইনীভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন চলমান রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটার ম্যানেজার বলেন, সাধারণত মধ্যম সারীর একটি ভাটায় বছরে ৩৫/৪০লক্ষ ইট পোড়ানো হয়ে থাকে। আর প্রতি ৮হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয় ১হাজার ঘনফুট মাটি। যে মাটির যোগান দেওয়া হয় কৃষি জমি থেকে। প্রতিদিন ইট পোড়ানোর জন্য গড়ে প্রতিটি ইটভাটায় ৪০-৪৫মন কাঠ পোড়াতে হয়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, ইট ভাটার সাধারণত আমরা যে কাঠ দিয়ে থাকি সেগুলো বিভিন্ন গ্রাম থেকে কিনে ভাটায় পৌছে দিই। গড়ে প্রতিটি গাছে ২ থেকে ৪মন কাঠ পাওয়া যায়। প্রতিদিন এ উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় আম, জাম, কাঠাল, রেন্ট্রি, কদম, খেজুর, নারিকেলসহ ২ শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা ১৯৯৭ এর ৭ ধারা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো যাবে না। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার সর্বোচ্ছ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধে ১লাখ থেকে ১০লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও সাজার বিধান রাখা হয়েছে। তৃতীয়বার করলে নিবন্ধন বাতিল ও ভাটা বাজেয়াপ্ত করারও বিধান রাখা হয়েছে। কাগজে কলমে এসব আইনের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তা ছাড়া কাঠের পাশাপাশি জীবননগর উপজেলায় যে সমস্ত ইট ভাটা আছে তার বেশির ভাগ ইট ভাটা গুলোই অবৈধ গাড়ি লটাহাম্বার রয়েছে। এ সমস্ত গাড়ি অদক্ষ ড্রাইভারদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর ফলে প্রতিনিয়িত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর সড়কে মা-বাবা ব্রিক্সের একটি ট্রাক্টরের ধাক্কায় দুইজন গুরুত্বর আহত হয়। তার আগে গত মঙ্গলবার নারায়রপুর শিথিল ইট ভাটার লটাহাম্বারে এক পথচারীর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেল চুরমার হয়। এত কিছু হওয়ার পর ও প্রশাসনিক ভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবননগর মেইন শহরে বেগতিতে ইটভাটার গাড়ি চলাচল করছে। কবে হবে এর সমাধান প্রশ্ন শহরবাসীর! এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, জীবননগর উপজেলায় যে ভাবে দিন দিন ইটভাটা বেড়ে চলেছে, তাতে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। যে সমস্ত ইটভাটার পাশে কৃষি জমি আছে, সে সমস্ত কৃষি জমিতে ফসল একেবারেই কমে গেছে। দ্রুত এর একটা সমাধান করার দ্বাবি জানান তিনি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জীবননগর উপজেলায় যে সমস্ত ইটভাটা সরকারী নিয়ম কানুন মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চলমান রয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার