চুয়াডাঙ্গায় আবাসিক হোটেলে নিহত তরুণী ও ঘাতকের পরিচয় মিলেছে
- আপলোড তারিখঃ
০২-০৩-২০১৮
ইং
পরকিয়ার কারণেই খুন হয় ময়মনসিংহের মেয়ে ফরিদা
প্রেমিক ঘাতক আনোয়ার গার্মেন্টসকর্মী ফরিদার প্রবাসী স্বামীর সহকর্মী
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা শহরের আবাসিক হোটেলে নিহত নারী ফরিদা খাতুনের (২২) পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার মেয়ে ফরিদা ঢকা গাজীপুরের গার্মেন্টস কর্মী। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় যোগাযোগ করে তার পরিচয় সনাক্ত করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের সার্থে বেশি কিছু না জানালেও প্রবাসী স্বামীর সহকর্মী বন্ধু ফরিদার কথিত স্বামী আনোয়ার হোসেনের সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে এমনটাই ধারণা করছেন তারা। আটক করা সম্ভব হয়নি পরকিয়া প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে।
জানা যায়, নিহত নারী ফরিদা খাতুনের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার মেয়ে ফরিদা ঢাকা গাজীপুরের গার্মেন্টস কর্মী। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে তার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় যোগাযোগ করে তার পরিচয় সনাক্ত করেন। সরলসোজা পিতার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ফরিদা। স্বামী প্রবাসী। প্রবাস জীবনেই পরিচয় আনোয়ার হোসেনের সাথে। পরে আনোয়ার ছুটিতে বাড়ি আসলে তখন থেকেই আনোয়ার ও ফরিদার মধ্যে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এ সকল বিষয় নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অনুমান করছে অনেকে। পুলিশ মামলার তদন্তের সার্থে আর কোন তথ্য না দিলেও আসামীকে ধরতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল খালেক সময়ের সমীকরণকে জানান, নিহত নারী ফরিদা খাতুনের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার মেয়ে ফরিদা ঢাকা গাজীপুরের গার্মেন্টস কর্মী। গত ২৬ তারিখ সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের আবাসিক হোটেলে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরদিন সকাল পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। গতকাল নিহতের লোকজন যোগাযোগ করলে জানা যায় তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি উপজেলায়। পেশাই সে ঢাকা গাজীপুরের একজন গার্মেন্টস কর্মী। তার স্বামী প্রবাসী শ্রমিক। সেখান থেকেই পরিচয় হয় ফরিদার স্বামীর সাথে পরিচয় হয় আনোয়ার হোসেনের। পরে আনোয়ার বাড়ী আসলে ফরিদার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার তদন্তের সার্থে এর থেকে বেশি কিছু জানাননি তিনি।
উল্লেখ্য, ঠিকাদার পরিচয়দানকারী ফরিদা ও আনোয়ার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পাশে আবাসিক হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠে। এসময় তারা ঠিকাদারীর কাজের উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গায় আসার কথা জানায় হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারের কাছে। নিহত ফরিদা খাতুন ঢাকা গাজীপুরের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, হোটেলটির রেজিস্ট্রার খাতা থেকে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। ঘটনার দিন এ ছাড়া আর কোন তথ্য রেজিস্টারে উল্লেখ ছিলো না। কয়েক দিন যাবত এ হোটেলে অবস্থান করাই তাদের আচরনে কোন সন্দেহর বিষয় লক্ষ করতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও তারা হোটেলের আশে পাশে স্বাভাবিকভাবে ঘুরতো বলে জানান, হোটেলটির পাশের লোকজন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ১০টার দিকে নিহতের স্বামী পরিচয়দানকারী আনোয়ার রুমের দরজায় তালাবদ্ধ করে বাইরে যায়। রাতভর রুমে আসেনি সে। পরদিন সকালেও রুমের দরজা না খুললে হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ এশে বিকল্প চাবি দিয়ে রুমের দরজা খুলে নিহত ফরিদা খাতুনের বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরদিন সিকাল পর্যন্ত তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
কমেন্ট বক্স