চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে মামলা : বখাটের মামাসহ সাঙ্গপাঙ্গদের হামলা
বাবা-মামা আহত : বাড়ীতে আগুন ও স্কুলছাত্রীর মা ও নানিকে কুপিয়ে জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় ৮ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্তের মামলার ঘটনায় বখাটে যুবকের পরিবার স্কুলছাত্রীর মা-বাবাসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। গতকাল বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগর কলোনিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় স্কুলছাত্রীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে দ্রুত স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নিভিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এঘটনায় স্কুলছাত্রীর মামা বাদী হয়ে ৭ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায়। আহতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগর কলোনিপাড়ার মেয়ের বাবা মশিউর রহমান (৪০) তার স্ত্রী শেফালি খাতুন (৩৫) মেয়ের নানি সাহিদা খাতুন (৫৫) ও মামা আকরামুল হক।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা নুরনগর কলোনিপাড়ার সামসুল হকের ছেলে বখাটে যুবক সোহাগ একইপাড়ার মশিউর রহমানের মেয়ে ৮ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী মুসলিমা খাতুনকে উত্যক্ত ও প্রেম নিবেদন করতো। বখাটে যুবক প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে। স্কুলছাত্রীর পরিবার ঘটনার দিন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা অভিযোগ করলে বখাটে সোহাগকে আটক করে পুলিশ। পরের দিন সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। একই দিন স্কুলছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরই জের ধরে গতকাল বিকালে বখাটের মামা সিরাজুল ইসলাম তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে গতকাল বুধবার বিকালে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যায়। এ সময় তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং স্কুলছাত্রীর মা শেফালি খাতুন ও নানী সাহিদা খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় স্কুলছাত্রীর পিতা মশিউর রহমান ও মামা আকরাম ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর পূর্বেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিভিয়ে ফেলে। পরে স্কুলছাত্রীর মা ও নানিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চিকিৎসাধিন আছে।
এবিষয়ে সদর থানার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বখাটে সোহাগ স্কুলছাত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। স্কুলছাত্রীর পরিবার ঘটনার দিন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা অভিযোগ করলে বখাটে সোহাগ আটক হয় পুলিশেল হাতে। পরের দিন সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। একই দিন স্কুলছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে গতকালকের ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মামা বাদি হয়ে ৭ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।