চুয়াডাঙ্গা শহর ধুলাময়; নিঃশ্বাস নিতে ভয়!
- আপলোড তারিখঃ
২০-০২-২০১৮
ইং
এস এম শাফায়েত: সারা বছর চলতে থাকা খোঁড়াখুঁড়ি আর রাস্তার বেহাল দশাতে চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলো যেন ধূলাতে ভাসছে। শরীর সাদা করেই থেমে থাকে না এই ধুলাবালি। ধুলাদূষণে মানুষের শরীরে চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সার, হাঁপানি ও যক্ষ্মাসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগ দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শ্বাস নিতেই ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ধুলায় ধূসরিত শহরের এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। খানাখন্দরে ভরা রাস্তাটি এক প্রকার চলাচলের অনুপযোগীও। রাস্তার এই বেহাল দশার ফলে গাড়ির চাকা এক বার ঘুরতেই ধুলাতে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে গোটা এলাকা। নিজের নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করেই চলাচল করছে যাত্রী ও পথচারীরা।
এছাড়া শহরের টার্মিনাল, রেলবাজার, একাডেমি মোড়, টাউন ফুটবল মাঠ, বড় বাজার, কোর্ট মোড়, কলেজ রোড, কেদারগঞ্জ, নতুন বাজার, সিএন্ডবিসহ অনেক এলাকায় এখন ধূলার অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ। তবে এমন ধূলার কারণ হিসেবে কেউ-কেউ বলছে অব্যবস্থাপনা আবার কেউ বলছেন ঋতু পরিবর্তনের ফল।
কেদারগঞ্জ এলাকার আব্দুর রশিদ সমীকরণকে বলেন, এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই এখন আমাদের চলাফেরা পথ। নাক না ধরে রাস্তা পার হওয়া যায় না। হাঁচি-কাশির সমস্যা থাকলে তো কথাই নেই। খাবারের দোকানগুলো চলছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এভাবেই চলছে, আমরাও মানিয়ে নিচ্ছি।
ব্যবসায়ী মুদির দোকানদার পিন্টু বলেন, রাস্তায় গাড়ি এসে থামার সঙ্গে-সঙ্গে পিছন দিক থেকে ধূলা এসে ভরে যায়। এক মিনিটের মধ্যে দোকানসহ আমি সাদা হয়ে যাই। এসব নিয়ন্ত্রণ করা বা দেখার যেন কেউ নেই। যত দুর্ভোগ সব জনগণের। এ উপদ্রুব থেকে রক্ষা পেতে পলিথিনের কাগজ দিয়ে দোকান ঢেকে রেখেছি। ফলে বেচাকেনা আগের মতো আর হয় না, রাস্তায় ধুলাবালির কারণে দোকান থেকে কেউ কিছু খেতে চায় না।
সিনেমাহলপাড়া এলাকায় বসবাসকারী চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম (২০) একটু অক্ষেপ করেই বলেন, আমার এমনিতেই একটু নিঃশ্বাসের সমস্যা রয়েছে। অপরিকল্পিত এই শহরের ধুলাবালিতে রাস্তায় বের হলেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে, যেখান থেকে এসেছি, সেখানেই ফিরে যাবো। থাকবো না এই পৌর শহরে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বলেন, ধুলাবালি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ধুলাবালিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে যাদের অ্যাল্যার্জিক রাইনাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাইনোসাইটিস, অ্যাজমাজনিত সমস্যা আছে। তাছাড়াও ধুলাবালিজনিত রোগীর সংখ্যাও আজকাল দিন-দিন বেড়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। এজন্য একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে জনগণকে। এ বছরেই সড়ক ভোগান্তি কাটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বর্তমানে শহরজুড়ে ধুলাবালির যে সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে সারাদিনে বেশ কয়েকবার পানি ছেটানোর জন্য সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কমেন্ট বক্স