বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাগানপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষ করা নিয়ে সংঘর্ষ

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০১-২০১৮ ইং
চুয়াডাঙ্গা গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাগানপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষ করা নিয়ে সংঘর্ষ
কৃষক আসাব উদ্দীন নিহত : প্রতিপক্ষের ঝন্টুসহ আহত-৬ : আটক-২ এসএম শাফায়েত/আফজালুল হক: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামে আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীনকে (৫৩) কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই ঘটনায় আহত হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদরের গাঁড়াবাড়িয়া বাগানপাড়ার মান্নানের বাড়িতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে দু’জনকে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মসজিদপাড়ার মৃত আতর আলি মন্ডলের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ঝন্টু মন্ডল গংদের সাথে আশরাফুল ওরফে আশাবুদ্দিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে ঝন্টু বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষের উদ্দেশ্যে পাওয়ারট্রিলার নিয়ে একজনকে পাঠায়। এ সময় আসাব উদ্দীন কয়েকটি আলমসাধুযোগে বহিরাগত ১৮-২০ জনকে সংগঠিত করে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে পাওয়ারট্রিলার চালককে মারধর করে ও পাওয়ারট্রিলারটি ভাঙচুর করে। এ সংবাদ ঝন্টুদের কাছে পৌছুলে ঝন্টুসহ গ্রামবাসীরা বিরোধপূর্ণ জমির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে সেখানে সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘর্ষে আশরাফ ওরফে আসাব উদ্দীন নিহত হয় এবং প্রতিপক্ষের ঝন্টুসহ আহত হয় অন্তত ৬ জন। স্থানীয়রা জানায়, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাগানপাড়ার মাঠে ৫১ শতক জমি নিয়ে মকছেদ আলীর ছেলে ঝন্টু, রবিউল, মন্টু, ইকরা, আশাদুলদের সাথে প্রায় দু’যুগ ধরে মসজিদপাড়ার মৃত আতর আলীর ছেলে আসাব উদ্দীনের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আসাব উদ্দীন ও তার ভাই শাহাবুদ্দিন আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার আদালত ও পারিবারিক সূত্রে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও উভয় পক্ষের মত পার্থক্যের কারণে বিরোধ থেকেই যায়। তবে ঝন্টুদের পরিবারের দাবি বিরোধপূর্ণ জমিটি আসাব উদ্দীনের মা তার পিতা মৃত মকছেদ মন্ডলের কাছে প্রায় দু’যুগ আগে বিক্রি করে। এর স্বপক্ষে ঝন্টুর পরিবারের জমিক্রয়ের দলিলপত্র রয়েছে। কিন্তু আসাব উদ্দীনরা দাবি করে তারা নাবালক থাকায় তার মাকে ভুল বুঝিয়ে রেজিস্ট্রি করিয়ে জমিটি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এখন তারা তাদের মায়ের জমি দাবি করে নিজেদের দখলে নিতে চাওয়ায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। `` পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সকালে মাঠের ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান লাগানো নিয়ে প্রতিপক্ষ মৃত মকছেদ আলী মন্ডলের ছেলে ঝন্টু, রবিউল, মন্টু, ইকরা, আশাদুল, সদর আলী মন্ডলের ছেলে মান্নান, হাবলু, খোকাই মন্ডলের ছেলে সালাম, আব্দুর রহমানের ছেলে আজিজুল ও কালু, রসুলসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে ধরে নিয়ে আসে। পরে তাকে গ্রামের মান্নানের বাড়িতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে ঝন্টুসহ তার লোকজন। প্রতিপক্ষের হামলায় সে মারা গেলে তার লাশ মান্নানের বাড়ির সামনের রাস্তার উপরে ফেলে রাখা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা বা লিখিত হয়নি বলে জানায় সদর থানা পুলিশ। এদিকে সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের হামলায় আহত হয় আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীনের ছেলে আরিফ, শরীফ ও তার মেয়ে মাছুরা খাতুন এবং তাদের চাচাতো ভাই বাবু। অপরপক্ষের মৃত মকছেদ মন্ডলের ছেলে ঝন্টু ও রবিউলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। আরিফ, শরীফ ও মাছুরা খাতুন সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে। কিন্তু ঝন্টুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে ওই গ্রামের মৃত ইদবার আলীর ছেলে আলাউদ্দীন (৪৫) ও ফারুককে (৪০)। নিহতের বড় ছেলে আরিফ জানায়, ঘটনার দিন সকালে ওই জমি নিয়ে হামলাকারীদের সাথে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মান্নানের বাড়িতে আপোষ মীমাংসার জন্য ডাকা হয় তাদের। কিছু টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার কথা বললে তারা স্বপরিবারে মান্নানের বাড়িতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার পিতাকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বেধে ফেলা হয় এবং সাথে থাকা দু’ছেলের উপর হামলা চালায়। এ সময় প্রাণভয়ে দুই ভাই পালিয়ে যাওয়ার সময় রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং পিস্তল উচিয়ে গুলি করার চেষ্টা করা হয়। এরপর তার পিতা আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীনকে দড়ি দিয়ে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত-পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এ ছাড়া লোহার রড দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে মাথার পিছনের দিকটা ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হলে হত্যাকারীরা তাদেরকে বাধা দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকী দিতে থাকে। ঝন্টুর পরিবার জানায়, বিরোধপূর্ণ জমিটির মালিক তারাই। এর স্বপক্ষে তাদের কাছে সমস্ত কাগজপত্র রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দু’টি পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে। নিহত আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মসজিদপাড়ার মৃত আতর আলি মন্ডলের ছেলে। সে একজন কৃষক। তার স্ত্রী, চার ছেলে আরিফ, শরীফ, তরিকুল ও শরিফুল এবং এক মেয়ে মাছুরা খাতুন রয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার