ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি পেনসনসহ বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা, জীবননগর, মেহেরপুর এবং গাংনীতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। দুইদিন কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলে আশ্বাস দিলে আজ দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্ল্যা এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরতি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে চুয়াডাঙ্গার জেলার ৪টি পৌর সভায় দুইদিন ব্যাপী কর্মবিরতির প্রথম দিন কর্মবিরতি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন এর দাবিতে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এ কর্মবিরতি পালন করছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদানের দাবিতে বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতি পালন করেন পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এ কর্মবিরতি চলাকালে পৌরসভার সমস্ত নাগরিক সেবা প্রদান থেকে বিরত ছিলো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তিনি আরো বলেন, পৌরসভায় রাত-দিন পরিশ্রম করার পরেও দীর্ঘ ১৩ মাস বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন বিপাকে। এ চিত্র শুধু চুয়াডাঙ্গার ৪টি পৌরসভার কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরই নয়। সারাদেশের ৩২৮টি পৌরসভার অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থা একই রকম। এ সময় পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময়, পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত নাগরিক সেবা নিতে আসা জনগণদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের আয়োজনে গতকাল সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পৌরসভা কার্যালয়ে ১ম দিন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়। কর্মবিরতি পালন অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হাসান কাদির গনু এর পূর্ণ সমর্থন দেন। এসময় আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ সদর উদ্দিন ভোলা ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন অর রশিদ হাসান পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি অনুষ্ঠানে কর্মচারীদের সাথে যোগ দেন। কর্মবিরতি পালন অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরা সরকারী কোষাগারে থেকে বেতন ভাতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করে জানান পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন রাত অক্লান্ত ভাবে পরিশ্রম করে জনগনের সেবা প্রদান করে থাকে, কিন্তু তারা মাসের পর মাস কোনো বেতন না পেয়ে অনাহারে অধ্যাহারে দিন যাপন করে, তাদের সন্তাদের স্কুলের ফিস দিতে পারে না, বাজারে কোনো দোকানদার তাদের বাকিতে সদায় দিতে চায়না, পরিবারের মানুষের চিকিৎসার জন্য ঔষধ ক্রয় করতে পারে না এমনকি অবসরে যাবার সময় সম্পূর্ণ খালি হাতে তাদের অবসর গ্রহণ করতে হয়, যা সত্যিকার অর্থেই অমানবিক। তাই বেতন ভাতা ও পেনশনের দাবী পূরনের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন করেন, যাতে তাদের দাবী পুরন হয়। কর্মকর্তা- কর্মচারীরা বর্তমান সরকারকে জানান এটা তাদের ভাতের দাবী, পেটের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রাণের ক্রন্দন, আর এই ক্রন্দনে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় দৃষ্টি না দেন তাহলে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসেসিয়েশনের আহ্বানে আগামীতে ঘোষিত কর্মবিরতিসহ যেকোন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন মানবদরদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩২ হাজার ৫ শত জন পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার পরিজনের অসহায় মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশন প্রদানের আদেশ দিবেন।

দর্শনা অফিস জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলে। এ কর্মবিরতি চলাকালে পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা প্রদান থেকে বিরতি রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় বক্তারা বলেন, পৌরসভায় রাত-দিন পরিশ্রম করার পরেও দীর্ঘ ১৩ মাস বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন বিপাকে। এ চিত্র শুধু চুয়াডাঙ্গার ৪টি পৌরসভার কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরই নয়। সারাদেশের ৩২৮টি পৌরসভার অধিকাংশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থা একই রকম। কর্মসুচিতে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময়, পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত নাগরিক সেবা নিতে আসা জনগনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলে। জীবননগর পৌরসভায় পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতির সময় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদা খাতুন, কামরুজ্জামান খোকা, জামাল হোসেন, সরাফাত হোসেন, তরিকুল ইসলাম,পলক ও বিলকিস বক্তব্য রাখেন।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২দিন ব্যাপী মেহেরপুর পৌরসভা চত্বরে কর্মবিরতি শুরু করেন পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মাচরীরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ওই কর্মসূচী শুরু হয় এবং আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচী। পরে সেখানে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সভাপতি তৌফিকুল আলম। বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান। সভায় বক্তরা বলেন দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আমরন অনশনে যাবেন তারা। এদিকে সকাল থেকে পৌরসভার সকল কাজ বন্ধ থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দূর্ভোগের শিকার হন। মেহেরপুর পৌরসভা সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তৌফিকুল আলম বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন ভাতা হয়না। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
[caption id=`attachment_34203` align=`alignnone` width=`300`]

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 82[/caption]
গাংনী অফিস জানিয়েছে, ‘এক দেশে দুই নীতি মানিনা মানব না’ এই স্লোগানে গাংনী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল থেকে পুরো কর্মদিবসে পৌর ভবনের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় তারা। আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পৌরসভার সাধারণ নাগরিকরা। অন্যদিকে দেশের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পেলোও বাদ যাচ্ছে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় জেলা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, গাংনী পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের নেতা আজিজুল ইসলাম, জুলফিকার আলী নেতৃবৃন্দ।