বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মায়ের মৃত্যুর ৬ বছর পর একইভাবে মেয়েরও মৃত্যু : হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০১-২০১৮ ইং
মায়ের মৃত্যুর ৬ বছর পর একইভাবে মেয়েরও মৃত্যু : হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহে শিশুকন্যাকে হত্যার পর পরিত্যাক্ত চাতালের ঘরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহ গ্রামে ইসমত আরা নামের এক শিশুকে হত্যার পর চাতাল ঘরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল দুপুরে সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলার কাছে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর ব্যাপারটি নিশ্চিত না হওয়ায় পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইসমত আরাকে হত্যার পর হটাতপাড়ার একটি চাতালের কুড়ে ঘরে ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার সৎ মা এবং চাচারা ভরণ পোষণ করবে বলেই তাকে হত্যা করেছে। ৬ বছর আগে ইসমত আরার মা মিনি খাতুনকেও একইভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। নিহত ইসমত আরা (৮) সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ভান্ডারদহ হঠাতপাড়ার ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) আদর্শ মহিলা কওমি মাদাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহ গ্রামের হঠাতপাড়ার ইসরাফিল হোসেনের সাথে চুয়াডাঙ্গা মুসলিমপাড়ার বাবলুর মেয়ে মিনি খাতনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে মিনারুল (১৩) ও একটি মেয়ে ইসমত আরা (৮) জন্ম নেয়। গত ৬ বছর আগে যৌতুকের দাবিতে ইসরাফিলসহ তার বোনেরা মিলে স্ত্রী মিনি খাতুনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে। এ নিয়ে একটি মামলাও করা হয়। কিন্তু তাদের দুইটি ছোট ছোট সন্তান থাকার কারণে ওই মামলাটি মিমাংসা করা হয়। নিহতের বড় চাচি বলেন, মেয়ের মাথায় সমস্যা ছিল। জ্বিন ভূতের আছরও ছিল। শনিবার রাতে আমার কাছেই ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ইসমত আরা নেই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখি চাতালের কুড়ে ঘরে বাঁশের সাথে গলাই ওড়না পেচিয়ে ঝুলছে। আমরা তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যায়। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এদিকে, এ সময় ইসমত আরার সৎ মা দেলোয়ারা খাতুন ও বড় চাচি একেকবার একেক রকম কথা বলে। যার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। `` এ বিষয়ে ইসমত আরার নানা বাবলু বলেন, ৬ বছর আগে ওরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছিল। এখন আমার নাতিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। নাতি মারা গেছে আমাকে খবরও দেয়নি। আমি অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তিনি আরও বলেন, ইসমত আরার বড় চাচা নূর আলম, বড় ফুফা শহিদুল ও সৎ মা দেলোয়ারা খাতুন তার ভরণ পোষণ করবে না বলে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি ওদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। তিনি বলেন- ইসরাফিলের ঘরে আমার মেয়ের দুই সন্তান ও পরের স্ত্রীর ১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। `` চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই সুমন সরকার জানান, ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে ইসমত আরাকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যাক্ত চাতালের ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে। পরে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত সরোজগঞ্জ বাজারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মারা যায়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ গ্রামে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এসআই সুমন সরকার আরো জানান, পরিবারের লোকজনের দাবি সে আত্মহত্যা করেছে। সুরতহাল রিপোর্টে গলার কাছে আঘাতের চিহ্নের কথা বলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না এটা হত্যা নাকি অত্মহত্যা। আজ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্থান্তর করা হবে। এ দিকে এ ঘটনায় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কেউ তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। এলাকায় নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। একটি আট বছরের মেয়ে কিভাবে বাঁশের সাথে ওড়না বেঁধে আত্মহত্যা করতে পারে? সে একা একা ঠিক মত ভাত খেতেও পারতো না। সে কিভাবে গলাই ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করলো?


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার