মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত : মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-১২-২০১৭ ইং
সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত : মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা
ডেস্ক রিপোর্ট: মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা আর বিজয়ের আনন্দে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকী। জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লাখ বীর শহীদকে। যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম স্বদেশ। স্মৃতিসৌধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ। পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন অনেকে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, দেয়া ও মিলাদ মাহফিল। বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ আয়োজন করেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সকাল সাড়ে ৬ টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। তখন তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাদের সালাম জানায়। এরপর জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান ও দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি আবারও শ্রদ্ধা জানান। আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয়ের ৪৬ বছর উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকাল ৬ টায় ৩১ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ, সকাল ৮টায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চার আয়োজন করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জেলার সকল সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমা অফিস, দোকান-পাটগুলো বর্ণিল আলো ঝলমলে সাঁজে সজ্জিত করা হয়। একই সাথে সঠিক মাপ ও রং এর জাতীয় পতাকা এবং রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। জেলা তথ্য অফিসের ব্যবস্থাপনায় এদিন দুপুর ১২টা হতে বেলা ২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হয়। দুপুরে সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার সকল মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা করা হয়। বিকেল ৩টায় পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মুক্ত মঞ্চে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা, সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বিজয় দিবসের আনন্দমূখর আয়োজন সমাপ্ত হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ: সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা ব্রিজের সন্নিকটে অবস্থিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ও পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান-পিপিএম। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং মোনাজাত করা হয়। এরপর জেলা পরিষদ’র পক্ষে সচিব নূরজাহান খানম, পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া), সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, এনজিও, সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দৈনিক সময়ের সমীকরণের শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন: মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে দৈনিক সময়ের সমীকরণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়। এসময় পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, সহকারী সম্পাদক সুমন পারভেজ, নিজস্ব প্রতিবেদক এসএম শাফায়েত, ফেরদৌস ওয়াহিদ, মাবুদ সরকারসহ পত্রিকার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচী পালন: ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ’র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ’র নির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ’র সহ-সভাপতি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শিরীন নাঈম পূনম ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন স্ব স্ব সংগঠনের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বৃন্দ। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন আওয়ামী লীগ’র নেতৃবৃন্দ, ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদ হাসান চত্ত্বরের শহীদ স্মৃতি সৌধে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ’র নেতৃত্বে ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পূষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগ’র উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কবরী রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সমাপ্ত হয়। র‌্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগ’র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ’র নির্বাহী সদস্য কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ’র সহ-সভাপতি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরীন নাঈম পূনম, জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, এড. আব্দুল মালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ’র ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলা, মহিলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি কহিনুর বেগম, জাতীয় শ্রমিকলীগ চুয়াডাঙ্গা’র সভাপতি আফজালুল হক, সাধারন সম্পাদক রিপন মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা আওয়ামী যুবলীগ’র সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সোহরাব হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। জেলা যুবলীগ’র বিজয় দিবসের কর্মসূচী পালন: চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ৭টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুল হক বিশ্বাস। পতাকা উত্তোলন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকী, সাবেক সভাপতি শরীফ হোসেন দুদু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। পুরাতন স্টেডিয়ামে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা ও পুরস্কার বিতরণ: জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্মযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্তিতে গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় শান্তির প্রতীক শ্বেত কপোত অবমুক্ত করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তাঁরা। এরপর পাইলট করপোরাল ও সার্জেন্ট গার্ড অব অনারের মাধ্যমে এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্যারেড কমা-ার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের আরআই চৌকস প্রহরায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করান। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সকলের উদ্দেশ্যে দেশের মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রাণবন্ত বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট ও সালাম গ্রহণ। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্তৃক শরীরচর্চা প্রদর্শনী উপভোগ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল- বাংলাদেশ পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার-ভিডিপি, বয়েজস্কাউটস, গার্লসগাইড, শিশুপরিবার, মুকুলফৌজ, হলদে পাখি, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন। কুচকাওয়াজ শেষে রকমারী সাঁজে নান্দনিক শরীরচর্চা/ডিসপ্লে প্রদর্শন করে অংশগ্রহণকারীরা। গ্রুপ-ক কুচকাওয়াজে ১ম স্থান অধিকার করেছে সরকারি শিশু সদন, ২য় হয়েছে গার্লস গাইড ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও ৩য় হয়েছে গার্লস গাইড সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়। গ্রুপ- খ থেকে ১ম স্থান অধিকার করেছে সরকারি শিশু পরিবার, ২য় হয়েছে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ ও ৩য় হয়েছে পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ডিসপ্লে প্রদর্শনে ক গ্রুপে ১ম হয়েছে সরকারি শিশু সদন, ২য় গার্লস গাইড সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩য় স্থান অধিকার করেছে বয় স্কাউট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। খ গ্রুপে ১ম হয়েছে ফুঁলকুড়ি শিশু বিদ্যালয়, ২য় কাবদল ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩য় হয়েছে সরকারি শিশু পরিবার। ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীসহ সকল অংশগ্রহণকারীদেরকে শুভেচ্চা পুরস্কার স্বরূপ জাতীয় পতাকা ও উপহার প্রদান করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মুক্তমঞ্চে তাদেরকে সংবর্ধিত করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুর রাজ্জাকের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএম, ঢাকা-৩০৯ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরিন নঈম পুণম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শামসুল আলম খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজর (অবসর প্রাপ্ত) খোন্দকার সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক), জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক জেলা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক, সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস শুকুর বাঙালি। এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত পুরিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কহিনুর বেগম, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার চেয়ারম্যান নাবিলা রুকসানা ছন্দা। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ওয়ালিউল্লাহ, মো. নুরুল ইসলাম এবং মরহুম আবু তালেব মন্ডলকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। উন্নত খাবার পরিবেশন: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার (এতিমখানা), জেলা কারাগার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের মধ্যে উন্নত মানের খাবার বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা: বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুটবল প্রতিযোগিতা হলেও ম্যাচ শুরু হওয়ার পর দেখা যায় অন্যরকম পরিস্থিতি। ফিফা’র নিয়মানুযায়ী মাঠে একটি বল ও দু’দলে ২২টি খেলোয়াড় অংশ নেয়ার বীপরিতে চার দলে কমপক্ষে দেড় শতাধিক খেলোয়াড়কে বল দখলের লড়াই করতে হয়। প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সোনালী অতীত একাদশ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা একাদশ, পুলিশ একাদশ, পৌরসভা একাদশ, জেলা প্রশাসন একাদশ ও মুক্তিযোদ্ধা একাদশ একযোগে ৯০ মিনিট মাঠ জুড়ে বল নিয়ে মেতে থাকলেও কোন গোলের দেখা মেলেনি। জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ (জেলা প্রশাসন একাদশ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম (পুলিশ একাদশ), পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু (পৌরসভা একাদশ), জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হাসানকে (মুক্তিযোদ্ধা একাদশ) দল নায়কের ভূমিকায় দেখা যায়। খেলা শেষে সকল অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করা হয়। মহিলাদের আলোচনা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান: চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মহিলাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: মহান বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় কলেজ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মুক্ত মঞ্চে আলোচনা, সিম্পোজিয়াম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। সহকারী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাঈফের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদিন খোকন, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মেজর (অবঃ) খোন্দকার সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক)। আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় বিজয় উৎসব। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা: মহান বিজয় উদ্যাপন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের আয়োজনে বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার ৪৬তম মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে এক বিজয় র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কোর্ট মোড় ঘুরে কবরী রোড দিয়ে শহীদ হাসান চত্তরে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দারের সভাপত্বিতে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষক লীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পান্নু, জেলা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, জেলা যুব লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরি জিপু। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন বাংলার আমজনতা ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছিলো ঠিক তেমনই বর্তমানে দলের ভিতর গ্রুপিং না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির। চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুলের বিজয় উৎসব: চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় র‌্যালী ও সকাল ১০টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের চীফ ইন্সট্রাক্টর (ইলেকট্রিক্যাল) প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির। প্রধান আলোচক ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ইন্সট্রাক্টর (ফিজিক্স) মো. রিপন আলি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কাজি আবু সাঈদ, নাজমুস সাদাত, হালিম মাহমুদ ভূইয়া, আব্দুর রহমান, পলাশ হোসেন, আব্দুল লতিফ, তৌহিদুল ইসলাম, কবির সাজ্জাদসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (ওয়েল্ডিং) সেলিম রেজা। বিজয় দিবসে হামদর্দ’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে হামদর্দ চুয়াডাঙ্গা শাখার পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী (এমবিবিএস)। ক্যাম্পে অসহায় ও দুস্থ রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্য ওষধ বিতরণ করা হয়। ক্যাম্পটি পরিচালনা করেন হামদর্দ চুয়াডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক মো. আহসান কবির। ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আলোচনা ও দোয়া: গতকাল নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আবদুল মোত্তালিবের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদেরকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস সম্বন্ধে জানতে হবে এবং নিজেদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফসিইউবি’র উপদেষ্টা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, প্রফেসর ইমরোজ মুহাম্মদ শোয়েব, রেজিস্ট্রার এফসিইউবি ড. মহবুব আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এফসিইউবি আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ডিরক্টের ফিনান্স এফসিইউবি ড. নাহিদ পারভেজ, চেয়ারম্যান কৃষি বিভাগ এফসিইউবি নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, সহকারী রেজিস্ট্রার এফসিইউবি ও মফিজুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রীরা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আরম্ভ করা হয়। আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান শেষে রচনা প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির নির্দেশনা মোতাবেক সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন গরীব-দুস্থ, অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। ভিকুইন্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ভিকুইন্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোরে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অভ্যন্তরীন ক্রীড়ানুষ্ঠান, আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল প্রভৃতি। ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অধ্যক্ষ মো. হামিদুল হক মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে মূল্যবান বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক- মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. শরিফুজজামান চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, হাসানুজজামান, রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা প্রমুখ। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেঁতুল শেখ কলেজ, আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, আন নূর ইসলামী একাডেমী স্কুল, সরোজগঞ্জ বেবি নার্সিং স্কুল, সরোজগঞ্জ বেবি চাইল্ড কেয়ার হোম স্কুল, সরোজগঞ্জ শিশু নিকেতন স্কুল, সরোজগঞ্জ আইডিয়াল বেবি স্কুল, সরোজগঞ্জ সোনামণি বেবি স্কুলসহ সরোজগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে মহান বিজয় দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। এছাড়াও সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীন নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেব নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়। তিতুদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিতুদহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সড়াবাড়ীয়া, খাড়াগোদা, তিতুদহ,গহেরপুর, ৬২নং আড়ীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদালয়ে গতকাল সকাল ৮টার দিকে শহীদদের প্রতি সম্মনার্থে বের হয় শোভাযাত্রা। পরে বেলা ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় নানা ধরনের আয়োজন। সড়াবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশীদ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিচুর রহমান বলেন- যাদের জন্য আমরা পেয়েছি এই স্বাধীন দেশ, পেয়েছি বাংলা ভাষা ও সাধের জন্মভূমি আজকের এই বিজয় দিবসে শুধু বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় নয় তার পাশাপাশি লাখো শহীদের আতœার প্রতি দোয়া মাহ্ফিলের আয়োজন করা হয়েছে দু-স্কুল একত্রে। এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে তিতুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানভির আহম্মেদ আলো নিজ উদ্যোগে স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজন করেন বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে ফুটবল খেলা। আবার খাড়াগোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে শোভাযাত্রার ব্যানারে দৃষ্টি কাড়ে পথচারিদের। আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। সকালে সরকারী ও বেসরকারী ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাজারে ও বধ্যভূমি বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্ত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, সাবেক কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, আলহাজ¦ শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, আব্দুল কুদ্দুস, এম. সবেদ আলী, মঈনদ্দিনসহ ৩শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত¦রে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুলিশ, আনছার, ভিডিপি, সিভিল ডিফেন্স, স্কাউটস, গালর্সগাইড এবং ছাত্র/ছাত্রীদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাড়ে ১১টায় উপজেলা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাহাত মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামিম আরা খাতুন, কৃষি অফিসার একেএম হাসিবুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আব্দুর রশিদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন কমান্ডার, আলহাজ¦ শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, সুলতান জোয়ার্দ্দার, আব্দুল কুদ্দুস, ইয়াকুব আলী মাষ্টার। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন সমাজসেবা অফিসার আবু তালেব। অন্যদিকে, শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছে আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাব। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতানের সাংবাদিকদের বিষয়ে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দরা। ভবিষ্যতে যদি সাংবাদিকদের নিয়ে জনসম্মুখে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে তাহলে তার কোন সংবাদ সাংবাদিকরা প্রকাশ করবে না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অপরদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকাল ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান শেষে একটি র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিগ্রী কলেজ চত্ত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, কাজী খালেদুর রহমান অরুণ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মুছা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। উপজেলা কৃষকলীগের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেয় কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক পানু, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার বজলুর রহমান, সাহাবুল হক, মোহন মিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় আলমডাঙ্গা পৌরসভার পক্ষ থেকে শহীদ মাজারে ও বধ্যভূমির বেদীতে মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর পৌরসভা চত্বরে বেলা ২টার সময় পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর মেয়র হাসান কাদির গনুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন, শেখ নূর মোহাম্মদ জকু, শফিউজ্জামান জোয়ার্দ্দার সুলতান, এ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ মোল্লা, পৌর প্যানেল মেয়র সদর উদ্দিন ভোলা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন বক্তব্যে পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং কর মওকুফের দাবীতে অনুষ্ঠানের সভাপতি পৌর মেয়র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৌর এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে আবাসিক বসত বাড়ির হোল্ডিং কর প্রদান করতে হবে না মর্মে ঘোষণা দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেষে পৌরসভার আয়োজনে হাইস্কুল ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বণিক সমিতি, শিক্ষকমন্ডলী, সুধিজন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর পরিষদ। এসময় প্রায় ৪ জনকে সৌজন্য উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা পৌরসভার ১শত টাকার প্রাইজবন্ড মুক্তিযোদ্ধা হাতে তুলে দেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা বলেন, ইতিপূর্বে বিএনপির পৌর মেয়র ক্ষমতায় থাকাকালে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে ৫শত টাকা করে প্রাইজবন্ড দেওয়া হত। উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সকাল ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন পরে শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে র‌্যালিসহ দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আনুছুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান পিন্টু, সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ আহম্মেদ সিদ্দিকি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান বকুল, রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বিশ^াস প্রমুখ। অন্যদিকে, বিএনপির অপরাংশের সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু ও জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক মেয়র আলহাজ¦ মীর মহি উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশাল র‌্যালি শহিদ মাজারে পূষ্পমাল্য অর্পণ শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৭টায় আলমডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ চত্ত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও একটি র‌্যালি শহিদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু হাসান বাচ্চু, জিবি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম, সহকারী অধ্যাপক মোনায়েম হোসেন, গোলাম সরোয়ার, রেজা উদ্দিন, মাহাবুব হোসেন, তাপস রশিদ, শফি উদ্দিন, আলম হোসেন প্রমুখ। আলমডাঙ্গা বাসট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম, সাহাবুল হকের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৮টায় শহিদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম খান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ইলিয়াছ হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ শহীদ মাজারে পূষ্পমাল্য অর্পণ শেষে উপজেলা চত্ত্বরে ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করেন। একইভাবে আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামান শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুরুপভাবে কর্মসূচী পালন করেন। এম. সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সকল কর্মসূচী পালন করেন। আপনজন মডেল স্কুলের পরিচালক রেজাউল হক লাবলুর নেতৃত্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহীদ মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরশাদপুুর একাডেমী একইভাবে কর্মসূচী পালন করেন। সন্ধা ৭টায় উপজেলা পরিষদ মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংগঠন, মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বাউল সাধুগুরু ফাউন্ডেশন, আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাত সাড়ে ৮টায় আলমডাঙ্গা ফরিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এখনও ষড়যন্ত্র নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকে প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটেছিল। দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাটুদাহ আটকবরে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পু®পমাল্য অর্পণ করা হয়। পু®পমাল্য অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল কামাল উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আছির উদ্দিন, নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, যুবলীগ নেতা শাহীন প্রমূখ। সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজগার টগর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন ঘটনাবলির ওপর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমবায় পরিদর্শক হারুন অর রশিদ। বেলা ১২টার দিকে উপজেলা অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজগার টগর, বিশেষ অতিথি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, মডেল থানার ওসি আকরাম হোসেন ও উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। বিকেলে স্টেডিয়াম মাঠে প্রীতি ফুটবল ও সন্ধ্যায় অডিটোরিয়াম হলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর ওস্তাদ আসমত আলী বিশ্বাস ও আক্কাচ আলীর তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, দামুড়হুদায় আ.লীগের (নজরুল মল্লিক গ্রুপ) বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে দামুড়হুদা বাসষ্ট্যান্ড থেকে শহিদুল ইসলাম ও এড. আবু তালেবের নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালীটি বের হয়ে দামুড়হুদার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালী শেষে বাসষ্ট্যান্ডে যুবলীগের অফিসের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আ.লীগের অন্যতম সদস্য ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ স¤পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুর রহমান মালিতা, স¤পাদক আব্দুর রহিম, হাউলী ইউনিয়ন সাধারণ স¤পাদক আব্দুর ওয়াহেদ, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ইদ্রিস আলী, স¤পাদক সাইদুর রহমান লিপ, নতিপোতা ইউনিয়নের সভাপতি রহিদুল, স¤পাদক আবুল কালাম কালাম আজাদ, নাটুদা ইউনিয়নের সভাপতি সামসুল আলম, স¤পাদক ওসমান গনি, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি সদক আবু সাইদ বিশ্বাস, কুড়ালগাছি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুর রশিদ, যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, শামসুজ্জোহা পলাশ, আবুল হাশেম, আনিছুজ্জামান, একরামুল মেম্বার, ঈমান আলী, আনোয়ার, ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম, জনি, রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম নেতা মাহফুজুর রহমান মিল্টন। দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে কলেজ মাঠে সকল রাজনৈতিক, সমাজিক, সাংস্কৃতিক পেশাজীবি সংগঠন ও থিয়েটার গ্রুপ উপস্থিত হয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর জাতীয় পতাকা এবং দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শপত বাক্য পাঠ করান দর্শনা সরকারী অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম। দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের র‌্যালী বের হয়। এছাড়া বিজয় দিবসের র‌্যালীতে আরো উপস্থিত ছিলেন দর্শনা পৌর বিএনপি ৩টি গ্রুপ। পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ও মোমিনুল নেতৃত্বে একাংশ। পৌর বিএনপি সভাপতি শাওন তরফদারের একটি গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ও হাজী খন্দকার শওকত আলীর নেতৃত্বে বিএনপির অপর একটি গ্রুপ র‌্যালীতে অংশ নেয়। দর্শনা পৌরসভা, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, অনির্বাণ থিয়েটার, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়, দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, দর্শনা গণ-উন্নয়ন গন্থাগার, দর্শনা সরকারী কলেজ, দর্শনা পূর্বরাম নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লিটিল এনজেন্স স্কুল, জয়নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, শান্তি নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাষ্টমস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়নগর গ্রাম, অংকুর আর্দশ বিদ্যালয়, পশ্চিম রাম নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আর্দশ প্রি ক্যাডেট স্কুল, আল হেরা নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দর্শনা আস্থা, দর্শনা ডি এস ফাজিল মাদ্রাসা, ঈশ্বরচন্দ্রপুর পাঠক আড্ডা, পুরাতন বাজার দোকান মালিক সমিতি, ওয়েভ সীপ প্রকল্প, দর্শনা পূর্নাঙ্গ স্থল বন্দর কমিটি, দর্শনা নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন ও দর্শনা ফার্মেসী সংগঠনসহ অসংখ্য দল বিজয় র‌্যালীতে অংশ নেয়। এছাড়া দর্শনা কেরুজ এ্যান্ড কোম্পানী এবং শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে দর্শনা ক্লাব মাঠে কুজ কাওয়াজের আয়োজন করা হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন কেরু ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত হোসেন, কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি তৈয়ব আলী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, কেরু কর্মকর্মা শাহাবুদ্দিন। এদিকে, উদাত্ত বাংলায় উদ্ভাসিত বিজয় শ্লোগানকে সামনে রেখে দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর পাঠক আড্ডা আয়োজনে এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্যোগে চিত্রাংকন, সংগীত, নৃত্য ও নাট্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়েছে। গতকাল দিন ব্যাপী দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। পাঠক আড্ডার উপদেষ্টা সরোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, অংকুর আর্দশ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, ৭১ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এমএ মামুন, দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, ওর্য়াড কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন মন্টু, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা কামরুজ্জামান যুদ্ধ। বিজয় দিবসের অলোচনা শেষে প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। এরপর দর্শনা আনন্দধামের পরিবেশনায় দেশের গান পরিবেশিত হয়। সব শেষে দর্শনা অণির্বাণ থিয়েটারের পরিবেশনায় ম-আহম্মেদ নিজামের রচনায় হাসমত কবিরের রির্দেশনায় নাটক ‘সুরত’ পরিবেশিত হয়। নাটকে অভিনয় করেছে অণির্বাণ থিয়েটারের সদস্য শামীম আজাদ, আবুল হোসেন, মিরাজ উদ্দিন, মিলন, রচনা, বাবু, আলিম, অপু, রিদয়, ফিরোজ, লিটন, ফাইম, স্বরশতি, রেজাউল ও সম্্রাট। আবহওয়া সংগীতে ছিলেন, ইসলাইল হোসেন খান টিটো, প্রভাষক মিল্টন কুমার, প্রভাষক সাইমুল হক টিপু, খাইরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান। অপরদিকে, `মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিজয় হোক আনন্দময়` এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দর্শনায় সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ৭দিন ব্যাপী ২১তম বিজয় মেলা ও নাট্যোৎসবের উদ্ভোদন হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় দর্শনা সরকারী কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড এড. শহিদুল ইসলাম। মেলার উদ্বোধক হিসাবে দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, দর্শনা তদন্তকেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ শোনিত কুমার গায়েন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আরতি হালসানা ও হারুন অর রশিদ জুয়েল। আলোচনা শেষে লোকনাথপুর বুলবলি একাডেমীর আয়োজনে রাত ৮টায় সাংস্কৃতিক ও নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আ: হান্নান দুলাল ও বাকী বিল্লাহ। জীবননগর অফিস জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা ও জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিশু কিশোররা মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল, জীবননগর পল্লী বিদ্যুৎ ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে ডিসপ্লে ও প্যারেড অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ বছর প্যারেড ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহন করে প্রথম স্থান লাভ করেন প্রাইড প্রি ক্যাডেট স্কুল পুরস্কার গ্রহন করেন প্যারেড কমান্ডার রহমত উল্লাহ। একই সাথে সকালে ১৬ডিসেম্বর উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ দলীয় কার্যালয়ে পতাকা তোলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, যুবলীগ নেতা আব্দুস সালাম ঈশা, শাহ শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু, আ. খ. ম কবির, শামীম সরোয়ার, মহিলা নেত্রী রিজিয়া, রাবিয়া, রেনুকা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক নাজমুল আলম মানিক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিঠু প্রমুখ। একই দিনে আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংকের নিচে একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোশারফ মিয়ার, থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক প্রভাষক নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী নাসির উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক বিজিবি সদস্য আব্বাস উদ্দিন, সাবেক কমিশনার আপিল উদ্দিন, মিজানুর রহমান নেনু প্রমুখ। মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। শনিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তপোধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কলেজ মোড় ও জেলা পরিষদ চত্ত্বরে অবস্থীত স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। পরে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, শহরের সামসুজ্জোহা পার্ক থেকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জেলার সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম রসুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন ,সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাড. মিয়াজান আলী, মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিম, আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাভলী ইয়াসমিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলীসহ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তলন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ ও পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। পরে প্যারেড পরিদর্শন করেন তারা। সেখানে শরীরচর্চা প্রদর্শন করে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক খাইরুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. জিকেএম সামছুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার বশীর আহম্মেদ প্রমূখ। সন্ধ্যায় শহীদ সামছুজোহা পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিকে, মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে বিজয়ী সমাবেশ, মিছিল ও পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে ‘এ বিজয় জনতার, এ বিজয় রক্তে লাল’ শ্লোগানে বিজয়ী মিছিল করা হয়। পরে শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অঙ্গীকার ঘোষণা করে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা বিএনপি সহ অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, সাঈদ আহামেদ, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা যুবলীগের উদ্যোগে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা যুবলীগের অফিস কার্যালয় থেকে পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান রিটনের নেতৃত্বে একটি বিজয়ী র‌্যালি বের হয়ে কলেজ মোড় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের স্মরনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এসময় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান, আহবায়ক কমিটির সদস্য, মালেক হোসেন মহন, ইয়ানূছ, সাইদুর রহমান উজ্জ্বল, সারাফত শেখ,সদর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান মাহাবুব, মিজানুর রহমান অপু, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মাসুদ রানা,শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ শেখসহ যুবলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এদিকে, মেহেরপুর জেলা যুবদলের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে শহীদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়েছে। সকাল ১০টার সময় শহরের বড়বাজার থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যুবদলের আহবায়ক জহুরুল ইসলাম বড়বাবুর নেতৃত্বে একটি বিজয়ী র‌্যালি বের হয়ে কলেজ মোড় শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় জেলা জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওমর ফারুক লিটন, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক প্রভাষক ফয়েজ মোহাম্মদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আক্তারুজ্জামান, সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদাল হক, সদর থানা যুবদলের সভাপতি হাসিবুজ্জামান, সহসভাপতি নূর তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম মুকুল, পৌর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আনিছুর রহমান লাভলু, প্রচার সম্পাদক সোহেল আহম্মেদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের পক্ষে থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা ছাত্রদল নেতা ফিরোজুর রহমান ফিরোজ, নাহিদ মাহবুব সানি, গিয়াস উদ্দিন, পৌর ছাত্রদল নেতা মিন্টু, সজিব, সদর থানা ছাত্রদল নেতা লিটন, বাঁধন, মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন অনিক, কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সোহাগ, কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা রোকনুজ্জামান রোকন, তানভীর, সজিব ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে, মেহেরপুর জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে প্রতি বছরের ন্যায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় চত্ত্বরে এ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। ৩য় শ্রেণী হতে ৫ম শ্রেণী মেয়েদের ব্যাঙ লাফ, ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ৮ম শ্রেণী মেয়েদের ১০০ মিটার দৌড়, ৯ম শ্রেণী হতে ১০ম শ্রেণী মেয়েদের সাধারন জ্ঞানের পরিক্ষা, ৫ বছরের উর্ধ্বে মেয়েদের যেমন খুশি তেমন সাজ, উপস্থিত বহিরাগত অভিভাবক ও অতিথি মহিলাদের জন্য মার্বেল দৌড়, মুজিবনগর শিশু সনদের মেয়েদের দড়ি লাফ, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সকল সদস্যকে ১টি দেয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে মোমবাতি জ্বালানোসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ও জেলা প্রশাসক পতœী স্মৃতি রানী সিন্হা, সহসভানেত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যর পতœী মোনালিসা ইসলাম, সহ-সভানেত্রী ও পুলিশ সুপারের পতœী সালমা আক্তার, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক খাইরুল হাসানের পতœী, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা শামীম আরা হীরা। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য নার্গিস বানু, সহকারী কমিশনার আরিফা আক্তারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মেহেরপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদেরকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এ সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম রসুল, পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আশকার আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আতাউল হাকিম লালমিয়া,জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার বশীর আহম্মেদ প্রমূখ। জেলার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আমঝুপি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আমঝুপিতে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ৭টার সময় আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্য়ালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান, সাধারন সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহানউদ্দিন চুন্নু। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার সময় আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন আমঝুপি বিএডিসির উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ-সহকারী পরিচালক আবু তাহের সরদার, নিমাই কুমার প্রামাণিক। এছাড়া আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আমঝুপি আলীম মাদ্রসা, আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়, গন্ধরাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর উত্তর শালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজয় র‌্যালী বের করে। বারাদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুরের বাড়াদীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোভাযাত্রা, পুষ্পমাল্য অর্পন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মহান বিজয় দিবস পালনে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। শোভাযাত্রা, পুষ্পমাল্য অর্পন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনাসভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরনীর মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও প্রধান শিক্ষক মীর মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিন। অন্যদিকে মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিক জাব্বারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমসি সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম ফেরদৌস। এছাড়া কাঁঠালপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঁঠালপোতা দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যাদুখালী স্কুল এন্ড কলেজ, বলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোমিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলিয়ারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষকগন নিজ নিজ বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করা হয়। মুজিবনগর অফিস জানিয়েছে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়। ভোর ৬টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ৩১বার তোপধনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৭টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পমাল্য অর্পন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা, মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মুজিবনগর থানা, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দীন বিশ্বাস সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুর নেতৃত্বে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান চান্দু, উপজেলা যুবলীগ নেতা আবু শাকিল আঙ্গুর, কৌশিকুল ইসলাম রুমি, শাহিন উদ্দীন শাহিনের নেতৃত্বে উপজেলা যুবলীগ, মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দীন সম্পাদক সাকিবের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতিন, যুগ্মআহবাহক বিপ্লব হোসেন ও আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সম্পাদক রেজাউল করিম সেলিমের নেতৃত্বে, বাগোয়ান ইউনিয়ন যুবলীগ, মোনাখালি ইউনিয়ন যুবলীগ, মুজিবনগর উপজেলা প্রেসক্লাব, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগ, সৈনিকলীগ, জাতীয়পাটি ও মুজিবনগর শিশু পরিবার, মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার, মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, এরপর বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাহিদা আক্তার এর উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনে অংশ নেন বীরমুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, বিএনসিসি, আনসার ভিডিপি, বাংলাদেশ স্কাউট ও স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে দশটার সময় সকল স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাড়ে ১১টার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ক্রীড়া প্রতিযোগী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বাদ যোহর জাতীর শান্তি, অগ্রগতি ও মঙ্গল কামনা করে উপজেলার সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধা মত সময়ে মন্দির গীর্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ পার্থনা এবং দুপুরে উপজেলার সকল এতিমখানা ও হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকাল ৩টায় শুরু হয় সৌখিন ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় সকল সরকারী ও বেসরকারী ভবনসমূহে আলোকসজ্জার মধ্যে দিয়ে ৪৬তম বিজয় দিবসের দিন ব্যাপি কর্মসূচি পালন করা হয়। গাংনী অফিস জানিয়েছে, গাংনীতে নানা আয়োজনের মধ্যেদিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। প্রথমে উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্যদিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ও গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনে, গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে, গাংনীতে এফএনবির আয়োজনে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আশা-গাংনী অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম আরও উপস্থিত ছিলেন আশা-মেহেরপুর জেলার সিবিএম মোঃ আতিয়ার রহমান, নেকবার আলী সহ কর্মীবৃন্দ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন পুস্পমাল্য অর্পণ করেছে। মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বীর শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় শুরু হয়ে দিনভর বিজয় দিবসের আনন্দে মেতে উঠে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের আওতাধীন শহীদুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ভৈরবার উদ্যোগে কলেজ সম্মেলন কক্ষে অধ্যক্ষ আলহাজ¦ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাঁশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আব্দুল মালেক মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক ওবাইদুল হক, সহকারী অধ্যাপক যথাক্রমে নজরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, শহীদুল্লাহ, ডা. নাহিদ পারভেজ রাজা, জাহাঙ্গীর আলম, প্রভাষক ইদ্রিস আলী, সাংবাদিক মোমিনুর রহমান, শারমিন খাতুন প্রমুখ। এছাড়া আলহাজ¦ মফিজ উদ্দীন একাডেমী রুলী, শাহাজদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভৈরবা ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আনন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা গুলোয় রুলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, শাহাজদ্দীন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল। এছাড়াও ভাবদিয়া-গাড়াপোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে, সভাপতি মনিরুজ্জামান কোম্পানী ও প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান আলীর নেতৃত্বে সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে এক আনন্দ র‌্যালি, শ্যামকুড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ও প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেনের নেতৃত্বে, ভাষাণপোতা-আমিননগর দাখিল মাদ্রাসার উদ্যোগে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইছাহক চৌধুরী ও সুপার মাওলানা বেলাল হুসাইনের নেতৃত্বে পৃথক ভাবে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরের গাংনীতে অসুস্থ মাদক ব্যবসায়ী স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে