চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের রহিম হোসেনের মেয়ে রুমিনা আক্তার রুমি (১৮)। মাত্র ৮ মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের বুড়াঐনেদপুর গ্রামের নজরুল হোসেনের ছেলে রানা আহমেদের সঙ্গে। কিন্তু সেই সংসার টিকলো না এক বছরও। গত শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রুমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রানা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং কুষ্টিয়া সদরের একটি তিনতলা ভবনের ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। রুমিনা আক্তার ছিলেন রানার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের আগে রুমির পরিবার জানতো না যে রানা পূর্বে আরও একটি বিয়ে করেছেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সংসারে শুরু হয় অশান্তি, কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী রানা আহমেদ রুমিকে মারধরের একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা রহিম হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ৮ মাসও সংসার করতে দিল না। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার সঠিক বিচার চাই।
রুমির ভাই বলেন, আমার বোন প্রায়ই ফোনে বলতো তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। আমরা বুঝতে পারিনি ওরা এত বড় ক্ষতি করবে।
নিহতের চাচাতো ভাই কাওসার আলী অভিযোগ করে বলেন, এটা আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। আগে হত্যা করে পরে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
কুষ্টিয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রুমির মরদেহ বোয়ালিয়া পূর্বপাড়ার বাবার বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ