একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতি। এই ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে কেবল আইনের প্রয়োগ নয়, বরং প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে নৈতিকতার বিকাশ ও সামাজিক আন্দোলন। এমনই এক বার্তা নিয়ে গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জোহান ড্রিমভ্যালি পার্কের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালার সূচনা হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত ঝিনাইদহ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ফজলুল হক। তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘দুর্নীতি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি একটি সামাজিক ক্যানসার। এর শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে আমাদের পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা হলো সমাজের দর্পণ, যাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
কর্মশালায় প্রাসঙ্গিক আলোচনা ও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর আব্দুল আলিম ও মাগুরা জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হাকিম। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর ও সততা সংঘের কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমন্বিত দুদক কার্যালয় ঝিনাইদহ-এর সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান, খালিদ মাহমুদ এবং সহকারী পরিদর্শক কাওসার আহমেদ। দিনব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে তিন জেলার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যেখানে দুর্নীতির কৌশলগত প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরির নানাবিধ পথ ও পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক