ইপেপার । আজশুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় ১০ প্রার্থীই আওয়ামী লীগের

যোগ্য প্রার্থী সংকট দেখছেন ভোটাররা

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
  • আপলোড টাইম : ০৯:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৬৪ বার পড়া হয়েছে

প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ঝিনাইদহের দুটি উপজেলায় সরকার সমর্থক ছাড়া বিরোধী শিবিরের কোনো প্রার্থী নেই। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত কোনো শরীক দলও এই নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচন হয়ে উঠছে নিরুত্তাপ। তাছাড়া ব্যক্তিত্ববান কোনো রাজনৈতিক নেতা এই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় ‘যোগ্য প্রার্থী’ সংকট দেখছেন ভোটাররা। শহর বা হাটে বাজারে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ঢিলেঢালা প্রচারণার পাশাপাশি প্রচণ্ড তাপদাহে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী আমেজ জমতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও প্রতীক হাতে পেয়ে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শহর অঞ্চলে পোস্টার ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ও নৌকা প্রতীক না থাকলেও মূলত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জে এম রশীদুল আলম, দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মাসুম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার খাঁন সউদ, যুবলীগ নেতা নুর এ আলম বিপ্লব ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এস এম আনিচুর রহমান খোকা প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনে জামায়াত নেতা ড. হাবিবুর রহমান প্রার্থী হলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই নির্বাচনে জাসাদ, বাসদ, কল্যাণ পার্টি, জেপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কাস পার্টিসহ আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলো কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে দলের মধ্যে এই ভোট নিয়ে ক্রমশ বিভেদ ও গ্রুপিং সৃষ্টি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৬৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯২৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ জন। মহিলা ভোটার রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৯। এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনেও সরকারের শরিক বা সরকার বিরোধী কোনো দল অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নিজ দলের প্রার্থীরাই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন থেকে ইতিমধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে সেখানকার ভোটও নিরুত্তাপ হয়ে উঠেছে। কালীগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবলী নোমানী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি, কাস্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমশের ও জাতীয় শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সহসভাপতি ইমদাদুল হক সোহাগ। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের মাঝেও কোনো উৎসাবের আমেজ নেই। ভোটারদের ভাষ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে নির্বাচন জমে না। কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ৩২৮ জন। মহিলা ভোটার রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৫৫৩।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলার আঠারো মাইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ভোট আসলে আগে গ্রামে গ্রামে পাড়া-মহল্লায় একটা আমেজ তৈরি হতো। কিন্তু এখন তা নেই। এই উপজেলা নির্বাচনেও চোখে পড়ছে না। সাধুহাটি ইউনিয়নের টোকনুজ্জামান জানান, নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২-১ জনকে মানুষ চেনে। বাকিদের কোনো দিন দেখেনি। প্রার্থীদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিত্ববান নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
নির্বাচন নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার খাঁন সউদ বলেন, সরকারের শরিকরা কেন নির্বাচনে প্রার্থী দেননি তা আমার জানা নেই। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে হয়ত তারা প্রার্থী দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে লড়াইটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠতো। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলেও আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা দাবি করেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মজিদ বলেন, এই সরকারের আমলে সব ভোটের কদর কমে গেছে। ভোটাররা মাঠে যায় না। একতরফা ডামি নির্বাচন হয়। বলা যায় মানুষের কল্যাণ তো নয়ই, দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করাই সরকারের মূখ্য উদ্দেশ্য।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় ১০ প্রার্থীই আওয়ামী লীগের

যোগ্য প্রার্থী সংকট দেখছেন ভোটাররা

আপলোড টাইম : ০৯:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ঝিনাইদহের দুটি উপজেলায় সরকার সমর্থক ছাড়া বিরোধী শিবিরের কোনো প্রার্থী নেই। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত কোনো শরীক দলও এই নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচন হয়ে উঠছে নিরুত্তাপ। তাছাড়া ব্যক্তিত্ববান কোনো রাজনৈতিক নেতা এই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ায় ‘যোগ্য প্রার্থী’ সংকট দেখছেন ভোটাররা। শহর বা হাটে বাজারে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। ঢিলেঢালা প্রচারণার পাশাপাশি প্রচণ্ড তাপদাহে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী আমেজ জমতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও প্রতীক হাতে পেয়ে ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শহর অঞ্চলে পোস্টার ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ও নৌকা প্রতীক না থাকলেও মূলত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জে এম রশীদুল আলম, দলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মাসুম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার খাঁন সউদ, যুবলীগ নেতা নুর এ আলম বিপ্লব ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এস এম আনিচুর রহমান খোকা প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনে জামায়াত নেতা ড. হাবিবুর রহমান প্রার্থী হলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই নির্বাচনে জাসাদ, বাসদ, কল্যাণ পার্টি, জেপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কাস পার্টিসহ আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলো কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে দলের মধ্যে এই ভোট নিয়ে ক্রমশ বিভেদ ও গ্রুপিং সৃষ্টি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৬৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯২৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ জন। মহিলা ভোটার রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৯। এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনেও সরকারের শরিক বা সরকার বিরোধী কোনো দল অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নিজ দলের প্রার্থীরাই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন থেকে ইতিমধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে সেখানকার ভোটও নিরুত্তাপ হয়ে উঠেছে। কালীগঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবলী নোমানী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি, কাস্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমশের ও জাতীয় শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সহসভাপতি ইমদাদুল হক সোহাগ। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের মাঝেও কোনো উৎসাবের আমেজ নেই। ভোটারদের ভাষ্য, অংশগ্রহণমূলক ও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে নির্বাচন জমে না। কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ৩২৮ জন। মহিলা ভোটার রয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৫৫৩।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলার আঠারো মাইল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ভোট আসলে আগে গ্রামে গ্রামে পাড়া-মহল্লায় একটা আমেজ তৈরি হতো। কিন্তু এখন তা নেই। এই উপজেলা নির্বাচনেও চোখে পড়ছে না। সাধুহাটি ইউনিয়নের টোকনুজ্জামান জানান, নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২-১ জনকে মানুষ চেনে। বাকিদের কোনো দিন দেখেনি। প্রার্থীদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিত্ববান নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
নির্বাচন নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ছরওয়ার খাঁন সউদ বলেন, সরকারের শরিকরা কেন নির্বাচনে প্রার্থী দেননি তা আমার জানা নেই। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে হয়ত তারা প্রার্থী দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে লড়াইটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠতো। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলেও আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা দাবি করেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মজিদ বলেন, এই সরকারের আমলে সব ভোটের কদর কমে গেছে। ভোটাররা মাঠে যায় না। একতরফা ডামি নির্বাচন হয়। বলা যায় মানুষের কল্যাণ তো নয়ই, দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করাই সরকারের মূখ্য উদ্দেশ্য।