ইপেপার । আজশুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন : গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

প্রার্থী পাঁচজন হলেও ত্রিমুখী লড়াই দেখছেন ভোটাররা

আলমডাঙ্গা অফিস:
  • আপলোড টাইম : ০৮:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট শেষ হয়েছে। ওই নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধীরা বর্জন করায় ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল। এবার দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধীরা না থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকেই ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, ৫ জন প্রার্থী হলেও লড়াই হবে মূলত তিনজনের মধ্যে। সবাই ভোটে বিজয়ী হতে মরিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী ঢাকার দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোমিন চৌধুরী ডাবু (আনারস) কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একাই উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গিয়ে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের দৃষ্টিতে তিনি ইতিমধ্যে সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান। তিনি উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি হারদী গ্রামের দুই প্রার্থী শিক্ষানুরাগী ও হারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং নবাগত প্রার্থী বর্তমান সরকার দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বলে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মঞ্জিলুর রহমান। তিনি দলীয় পরিচয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এদিকে, ভোটে নুরুল ইসলামকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈদ হাসান জোয়ার্দ্দার সমর্থন দেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বৃহত্তর এলাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বেশ খোশ মেজাজে আছেন।

সরেজমিনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো প্রার্থীই ভোটের উন্মাদনা ছড়াতে পারছেন না। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে অর্থের ঝনঝনানি ছিল, মানুষের এখনো সেই ঘোর কাটেনি। আর একই দলের ৫ জন প্রার্থীর শক্ত অবস্থান হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উভয় সংকটে পড়েছেন। তবে এলাকায় সেইভাবে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়নি।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে প্রচারণার শেষ দিন। ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। আলমডাঙ্গার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ভোটারদের নিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতিদিন প্রার্থীরা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের পদ না থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঐক্যবদ্ধভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মঞ্জিলুর রহমানকে সমর্থন দিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিত ইতিমধ্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

এদিকে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ নুরুল ইসলামের সাথে সখ্যতা রেখে উপজেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া গত ৫ বছর উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্বপালন শেষে আবারো নির্বাচনের মাঠে ভোটযুদ্ধে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেন। এবার পারিবারিক সঙ্গ না পেলেও জেলা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনে কর্মীদের নানা প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় একটু বিপাকে রয়েছেন।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কায় ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন মো. আব্দুল মমিন চৌধুরী ডাবু। উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে অপরিচিত থাকলেও ঢাকাতে রয়েছে তার শক্তিশালী অবস্থান। এর পাশাপাশি উপজেলার অনেক নেতা-কর্মী মামলা-হামলা থেকে রেহাই পেতে তার দারস্ত হন। এ জন্য ভোটের মাঠে তার অবস্থানও মোটামুটি ভালো।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন : গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

প্রার্থী পাঁচজন হলেও ত্রিমুখী লড়াই দেখছেন ভোটাররা

আপলোড টাইম : ০৮:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট শেষ হয়েছে। ওই নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধীরা বর্জন করায় ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল। এবার দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধীরা না থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকেই ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, ৫ জন প্রার্থী হলেও লড়াই হবে মূলত তিনজনের মধ্যে। সবাই ভোটে বিজয়ী হতে মরিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী ঢাকার দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোমিন চৌধুরী ডাবু (আনারস) কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একাই উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গিয়ে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের দৃষ্টিতে তিনি ইতিমধ্যে সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

অন্যদিকে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান। তিনি উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি হারদী গ্রামের দুই প্রার্থী শিক্ষানুরাগী ও হারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং নবাগত প্রার্থী বর্তমান সরকার দলীয় সমর্থিত প্রার্থী বলে পরিচিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মঞ্জিলুর রহমান। তিনি দলীয় পরিচয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এদিকে, ভোটে নুরুল ইসলামকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈদ হাসান জোয়ার্দ্দার সমর্থন দেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বৃহত্তর এলাকায় একক প্রার্থী হিসেবে বেশ খোশ মেজাজে আছেন।

সরেজমিনে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো প্রার্থীই ভোটের উন্মাদনা ছড়াতে পারছেন না। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে অর্থের ঝনঝনানি ছিল, মানুষের এখনো সেই ঘোর কাটেনি। আর একই দলের ৫ জন প্রার্থীর শক্ত অবস্থান হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উভয় সংকটে পড়েছেন। তবে এলাকায় সেইভাবে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়নি।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে প্রচারণার শেষ দিন। ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। আলমডাঙ্গার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ভোটারদের নিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতিদিন প্রার্থীরা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের পদ না থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঐক্যবদ্ধভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মঞ্জিলুর রহমানকে সমর্থন দিয়ে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিত ইতিমধ্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

এদিকে, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ নুরুল ইসলামের সাথে সখ্যতা রেখে উপজেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া গত ৫ বছর উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্বপালন শেষে আবারো নির্বাচনের মাঠে ভোটযুদ্ধে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেন। এবার পারিবারিক সঙ্গ না পেলেও জেলা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনে কর্মীদের নানা প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় একটু বিপাকে রয়েছেন।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কায় ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন মো. আব্দুল মমিন চৌধুরী ডাবু। উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে অপরিচিত থাকলেও ঢাকাতে রয়েছে তার শক্তিশালী অবস্থান। এর পাশাপাশি উপজেলার অনেক নেতা-কর্মী মামলা-হামলা থেকে রেহাই পেতে তার দারস্ত হন। এ জন্য ভোটের মাঠে তার অবস্থানও মোটামুটি ভালো।