শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সংবাদ সংগ্রহকালে দামুড়হুদার সুবলপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা

স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ছিনতাই, থানায় অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৯-২০২৬ ইং
সংবাদ সংগ্রহকালে দামুড়হুদার সুবলপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা

দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর স্লুইসগেট এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রাসেল উদ্দীনের ওপর হামলা, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।


এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আহত সাংবাদিক মো. রাসেল উদ্দীন (২৫) কার্পাসডাঙ্গা কবরস্থান পাড়ার মো. লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
এজাহারে রাসেল উদ্দীন অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিউজ সংগ্রহের জন্য দামুড়হুদা থানাধীন সুবলপুর স্লুইসগেটের সামনে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এসময় তারা ‘কেন নিউজ করেছি’- এমন প্রশ্ন তুলে উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়।


এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন- মো. ইদির ছেলে মো. ইয়ামিন (২০), মো. কাশেমের ছেলে মো. হাসিবুল ইসলাম (২১), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. সুমন আলী (২৩) এবং মো. শুকুর আলীর ছেলে জেরো (২২)। তারা সবাই দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত ধারালো চাপাতি দিয়ে রাসেল উদ্দীনের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মুখের ডান পাশে ও ডান কানের নিচে লেগে কাটা-রক্তাক্ত জখম হয়। ২ নম্বর অভিযুক্ত চাপাতি দিয়ে তার পিঠের পেছনে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথা, ঘাড়, পিঠ, হাত ও পায়ে আঘাত করে ফোলা ও থেতলানো জখম করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
হামলার সময় ১ নম্বর অভিযুক্ত রাসেল উদ্দীনের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ছিঁড়ে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় ২ ও ৩ নম্বর অভিযুক্তের আঘাতে তার প্যান্টের পকেটে থাকা গড়ঃড়ৎড়ষধ ৫০ ঠরংরড়হ মডেলের স্মার্টফোনটি ভেঙে নষ্ট হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনটির আনুমানিক মূল্য ৩৮ হাজার টাকা।


পরে স্থানীয়দের চিৎকারে কোমরপুর গ্রামের মো. আরাফাত ও কার্পাসডাঙ্গার মো. মিরাজসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করেন। এসময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আহত রাসেল উদ্দীনকে পরে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস