দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে ছোট ভাই জনির বিরুদ্ধে ব্যাগের ভেতরে থাকা আরবি বই, মাদ্রাসার আইডি কার্ড ও কোরআনের আয়াত লেখা কাগজ পুড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ করেছেন বড় ভাই রনি। এ ঘটনায় রনি ও তার মা গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোষাঘাটা গ্রামের আলিহীমের ছেলে রনি ও জনি আপন দুই ভাই। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও জনির নেশা করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে জনি বিভিন্ন সময় তার মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়ানো এবং মারপিটের হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জনির অত্যাচারে রনি ও তার মায়ের বাড়িতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য জনি পাঁয়তারা করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন রনি।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত ১১টার দিকে নেশার টাকার জন্য জনি তার মাকে গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার মা গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে জনি হাতে কুড়াল নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন এবং কোপ দিলে সেটি মাটিতে লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে জনি তার নিজের মেয়ে মোছা. জুই খাতুনের (৬) বই, খাতা, মাদ্রাসার আইডি কার্ড এবং কোরআনের আয়াত লেখা কাগজ পুড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা দুজন আপন ভাই। তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। একটি ব্যাগ পোড়াতে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে আরবি বই ছিল। না জেনে সে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিবেদক দামুড়হুদা