উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও দলগুলোর হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জেলার সদর, দামুড়হুদা, জীবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফুটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা ও সাঁতারসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় সমাপনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে জাতীয় খেলা কাবাডির ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করতে কাবাডির ফাইনালটি অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে রাখা হয়। চুয়াডাঙ্গা আদর্শ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে হবে। খেলাধুলা সেই মেধা ও প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছে, তারা পরবর্তী পর্যায়ে বরিশাল অথবা খুলনায় খেলবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় গিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি জেলার তরুণ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও ক্রীড়াশৈলীর প্রশংসা করেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা করার আহ্বান জানান।
প্রতিযোগিতার দলীয় ইভেন্টে বালক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্স আপ হয়েছে দামুড়হুদা সরকারি পাইলট হাইস্কুল। বালিকা হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এ ইভেন্টে রানারআপ হয়েছে দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বালক কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ ইভেন্টে রানার্সআপ হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গিরিশনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বালিকা কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রাহেলা খাতুন গার্লস একাডেমি। রানার্সআপ হয়েছে দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এছাড়া বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার মুক্ত সাঁতার, ৫০ মিটার চিৎ সাঁতার, ৫০ মিটার প্রজাপতি সাঁতার, মধ্যম ৪দ্ধ৫০ মিটার মিডলে রিলে, দাবাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসব ইভেন্টে কৃতিত্বের সঙ্গে বিজয়ী হন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রফি মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন। এসময় বক্তারা তরুণ খেলোয়াড়দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিকাঈল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সেলিম রেজা, চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ জান্নাত আলী ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব বিপুল হাসান হ্যাজিসহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ও শিক্ষার্থীরা।
পুরস্কার বিতরণ ও বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক