বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শান্তিনিকেতনের মঞ্চ মাতিয়ে দেশে ফিরেছেন ধীরু বাউল

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৯-২০২৬ ইং
শান্তিনিকেতনের মঞ্চ মাতিয়ে দেশে ফিরেছেন ধীরু বাউল

ভারতের শান্তিনিকেতনে দুই দিনব্যাপী জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে দেশে ফিরেছেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ধীরু বাউল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর-শান্তিনিকেতনের দুটি মঞ্চে বাংলা গান, লোকনৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় ও শাস্ত্রীয় সংগীতের আয়োজন করা হয়। এতে ভারত ও বাংলাদেশের দেড় শতাধিক শিল্পী অংশ নেন।


কলকাতার সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান এবং পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর-শান্তিনিকেতন শাখার যৌথ আয়োজনে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ভারতের আসাম, শিলচর, পশ্চিমবঙ্গ, বিহালা গুরুকুল ডান্স গ্রুপ, নবদ্বীপ শিল্পী সংস্থা, আসানসোল, বর্ধমান, বীরভূম, বোলপুর বাউল ঘর, শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের শিল্পীরা অংশ নেন।


১২ সেপ্টেম্বর বোলপুর-শান্তিনিকেতনের মিউনিসিপ্যালিটি প্রেক্ষাগৃহের উৎসব মঞ্চে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর বোলপুর রাঙামাটি হোটেল প্রেক্ষাগৃহের শান্তিনিকেতন মঞ্চে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে বৃহত্তর বাংলার বাউল ও লোকগানকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।


এরপর রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, বাউকুড়ার ভাওয়াইয়া, চটকা, ধামাইল ও শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শুরু হয় বাউল ও লোকগানের আসর। আসামের ভাওয়াইয়া শিল্পী মিনতি সাতরা, শিলচরের গৌরাঙ্গ রেড্ডি, বিহালার চৈতালি দাস বাউল ও নৈহাটির পরম তাপ দাসের গান পরিবেশনের পর মঞ্চে ওঠেন ধীরু বাউল।


১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী থাকায় ধীরু বাউল তাঁর জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। এর মধ্যে ছিল ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ধামাইল গান, ‘কোন মিস্ত্রি নাও বানাইছে’, ‘আগের বাহাদুরি তোমার গেল কই’ এবং ‘গ্রামের নওজোয়ান’। তাঁর পরিবেশনায় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয়।


পরদিন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ধীরু বাউল শান্তিনিকেতনের মঞ্চে লালন সাঁইজির জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। পরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সেরা ১০ জন শিল্পীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আসামের একটি শিল্পী সংগঠনের পক্ষ থেকে ধীরু বাউলকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বোলপুর-শান্তিনিকেতন শাখার সভাপতি নীলকণ্ঠ মজুমদার এবং বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের কলকাতা শাখার সভাপতি ড. রাধাকান্ত সরকার তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।


বিদেশের মাটিতে বাংলা গান পরিবেশন করে সম্মানিত হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে ধীরু বাউল বলেন, ‘সবার আগে আমার সোনার বাংলাদেশ। আর সেই বাংলার লোককবিদের লেখা ও সুরে গান গেয়ে আমি যে সম্মান পেয়েছি, সেটা আমার কোনো কৃতিত্ব নয়। আমি এখনো কিছুই পারিনি। এটা আমার গুরুর চরণধূলি। আমার প্রাণের জেলার সর্বস্তরের ও সব ধর্মের মানুষের বড় অবদান। কারণ তাঁদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো দিনই এটা সম্ভব ছিল না।’



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে মাদক ও গুলিসহ পিতা-পুত্র আটক