শুক্রবার, ২১ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনা কেরু চিনিকলে এবারও ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা লোকসান

ডিস্টিলারিতে রেকর্ড ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মুনাফা
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৮-২০২৬ ইং
দর্শনা কেরু চিনিকলে এবারও ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা লোকসান

দর্শনা অফিস ও সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে চিনি উৎপাদনে এবারও বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। তবে ডিস্টিলারি ইউনিটে রেকর্ড ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভ্যাট ও আয়কর বাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর মোট নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা।


এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কেরুর নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দেয়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা।


জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে চিনি ইউনিটে ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা লোকসান হয়। তবে ডিস্টিলারি ইউনিটে মুনাফা হয় ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৬৮ টাকা। এছাড়া বাণিজ্যিক খামারে ৩৮ লাখ ৯ হাজার ৭১২ টাকা, আকন্দবাড়ীয়া খামারে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ টাকা, বায়ো ফার্টিলাইজার ইউনিটে ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মা ইউনিটে ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬ টাকা মুনাফা হয়। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা।


অন্যদিকে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও চিনি ইউনিটে লোকসান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ইউনিটে ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তবে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে, যা কেরুর ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এছাড়া বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিট, বায়ো ফার্টিলাইজার এবং ডিস্টিলারি ফার্মা ইউনিট থেকেও মুনাফা হয়েছে। সব ইউনিট মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভ্যাট ও আয়কর বাদে কেরুর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০০ টাকা।


কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হয়েছে। তবে অডিট শেষ হতে আরও দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে। কোম্পানির ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আর কখনো হয়নি।’


তিনি বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ডিস্টিলারি ইউনিটের বকেয়া পাওনা আদায়ের মতো বেশ কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি।’ চিনি ইউনিটে ধারাবাহিক লোকসানের বিষয়ে রাব্বিক হাসান বলেন, ‘আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আখ মাড়াই করে উৎপাদিত চিনিতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এর সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ চিনি ইউনিটের লোকসানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।’


১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি মূলত একটি চিনিকল পরিচালনা করে। তবে চিনির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিলারি, বায়ো ফার্টিলাইজার, বাণিজ্যিক খামার এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট রয়েছে। দর্শনায় অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারিতে চিনির উপজাত ঝোলাগুড় থেকে স্থানীয়ভাবে অ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়। এছাড়া আখ থেকে চিনি উৎপাদনের পর অবশিষ্ট ছোবড়া ব্যবহার করে জৈব সার উৎপাদন করা হয়।



কমেন্ট বক্স