চুয়াডাঙ্গায় আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভায় দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা পৌঁছে দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব স্তরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লব সম্পর্কে মানুষ জানলেও জুলাই সনদ সম্পর্কে অনেকের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। গণভোটে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ বিষয়টি বিস্তারিত না জেনেই ভোট দিয়েছেন। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে এবং তাদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী বা দানবীয় শাসনব্যবস্থা ফিরে আসতে না পারে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘যারা দুই বছর আগে ছোট ছিল, তারা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তাদের কাছেও জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়মিত তুলে ধরতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও এনজিওসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জুলাইয়ের চেতনা সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের জন্য সবাইকে জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করে কাজ করতে হবে।’
সভায় জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্ট বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অন্যান্য কর্মসূচি। এসব আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আন নাসের, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মিঠু চন্দ্র অধিকারী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আসলাম হোসেন অর্ক। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক