শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কালীগঞ্জে সরকারি হাসপাতালের ডিউটি ফেলে কৃষিজমিতে চিকিৎসক

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে দিয়ে করানো হলো কৃষিকাজ
  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৭-২০২৬ ইং
কালীগঞ্জে সরকারি হাসপাতালের ডিউটি ফেলে কৃষিজমিতে চিকিৎসক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুন কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে (এমআর) দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলির কাজ করানো এবং বিনিময়ে নিম্নমানের কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন ডা. অরুন কুমার মন্ডল। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী দেখার কথা থাকলেও সকাল ৯টার দিকেই তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর একটি ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ মারুফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ৪ কিলোমিটার দূরে মল্লিকপুর রোডের নরেন্দ্রপুর নামক স্থানে নিজের একটি কৃষিজমিতে যান। সেখানে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে বাগানের পরিচর্যা ও বিভিন্ন কৃষিকাজ করান তিনি।


প্রতিবেশী কামরুজ্জামান বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইতিপূর্বেও যশোরের নিজ বাড়িতে চিকিৎসকের গৃহস্থলির কাজে এসব বিক্রয় প্রতিনিধিদের ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু এক কোম্পানির প্রতিনিধি নয়, সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন কাজের তদারকি করান। বিনিময়ে সাধারণ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে প্রয়োজন ছাড়া নিম্নমানের কোম্পানির ওষুধ লিখে দেন, যা রোগীদের আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


সরেজমিনে জানা যায়, মাঠের কাজ শেষ করে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডা. অরুন কুমার মন্ডল পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরে এসে রোগী দেখা শুরু করেন। এসময় তার কক্ষের বাইরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদেরই রোগীদের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. অরুন কুমার মন্ডল অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি তো এমন কাজ নিয়মিত করি না। একটি বিশেষ কারণে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম।’ বিষয়টি জানতে পেরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

কার্পাসডাঙ্গার কুতুবপুরে দোকানের তালা ভেঙে টিভি চুরি