দামুড়হুদা উপজেলায় চলন্ত ফিলিং স্টেশনের জমি নিজের দাবি করে সিমেন্টের খুঁটি ও কাঁটাতার দিয়ে দখল করা হয়েছিল। এতে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রয় করতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম। গত রোববার রাত ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) দ্রুত ফিলিং স্টেশনের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শরিফুল আলম মিল্টন ও রুস্তম আলী মিলে সিমেন্টের খুঁটি ও কাঁটাতার সরিয়ে ফিলিং স্টেশন ফাঁকা করে দেন। এতে ফিলিং স্টেশনটিতে পুনরায় জ্বালানি তেল বিক্রয় স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা যায়, দামুড়হুদা সদরের দশমীপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে ফিলিং স্টেশনের মালিক শাজাহান আলির নামে জমিটি থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে আসছে। তবে দাবি করা হচ্ছে, এরমধ্যে শাজাহান আলি তার ছোট ভাইয়ের নামে ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে শাজাহান আলীর ছোট ভাই সেলিম হোসেন ওই ৯ শতক জমি আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল আলম মিল্টন ও জুড়ানপুর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী মৃত চাঁদ আলীর ছেলে রুস্তম আলীর নিকট বিক্রয় করেন। যা শাজাহান আলি অস্বীকার করে, তাঁর ৯ শতক জমি জাল করে রেজিস্ট্রি করেছে এমন অভিযোগ তুলে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত জমির বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক মারধর করে ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে বের করে দেয় এবং চলমান প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে অর্ধেক জমি ঘিরে নেয়। দামুড়হুদা মডেল থানায় জানাতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার তার লোকজন নিয়ে সিমেন্টের পিলার পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেয়। এতে ফিলিং স্টেশনের তেল বিক্রির প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং পাম্পের কার্যক্রমে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
শাজাহান আলি বলেন, ফিলিং স্টেশনের জমি সরকারের কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ১৮ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৯ শতক জমি তার ছোট ভাই জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নিয়েছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক দখল নেওয়া সম্পূর্ণ আইনের বহির্ভূত।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী এবং দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন এসে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। পরদিন রোববার বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী দুই পক্ষের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য দখলদারদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই কড়া নির্দেশনার পর একই দিন সন্ধ্যায় দখলকারীরা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জমির নতুন ক্রেতা শরিফুল আলম মিল্টন ও বিক্রেতা সেলিম উদ্দিন বলেন, তারা সেলিম উদ্দিনের বৈধ মালিকানা মনে করেই জমিটি ক্রয়-বিক্রয় করেছিলেন এবং শনিবার দখল বুঝে নিয়েছিলাম। তবে প্রশাসনের নির্দেশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বেড়াটি সরিয়ে নিয়েছি।
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনের মালিক শাজাহান আলী বলেন, প্রতিপক্ষরা সিমেন্টের খুঁটি ও কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়ার ফলে ফিলিং স্টেশনে কার্যক্রম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তারা কাঁটাতার সরিয়ে নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল বিক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী স্যার শুনানি করেছেন। স্যার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই ভাবেই কাজ হয়েছে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা