চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত রশিদা বেগম (৫৯) ও তার ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়। এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ্সহ দর্শনা থানা-পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া নারী রশিদা বেগম (৫৯) দর্শনা থানার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের ফার্মপাড়ার রবিউল ইসলামের স্ত্রী। তার ছেলে জিলারও দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এলাকাবাসীর দাবি, আকুন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা ফার্মপাড়া এলাকা থেকে জিলারকে চার পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এসময় তার মা রশিদা বেগম পাশের একটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকেও আটক করে মা-ছেলেকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। কিছু সময় পর তাদের দর্শনা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা জানান, আকুন্দবাড়িয়া এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রশিদা বেগম ও তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, রশিদা বেগমের মাধ্যমে এলাকায় প্রথম মাদকের বিস্তার ঘটে এবং পরে তার ছেলে জিলারও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। বহুবার সতর্ক করার পরও তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, ইয়াবাসহ ধরার পর কিছু সময় তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী রশিদা বেগম ও তার ছেলেকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রশিদা এবং তার ছেলেকে আটকের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ বলেন, ‘তাদের নামে ৩২টি মামলা আছে। আমি সম্প্রতি এখানে এসেছি। এসপি স্যার আমাকে বলেছেন, এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল হাতিয়ার হলো মাদক নিয়ন্ত্রণ। এই মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার দরকার, তার জন্য আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা আমাদরে সহযোগিতায় এই এলাকাকে মাদকমুক্ত করে দেখাবো ইনশাআল্লাহ।’
সমীকরণ প্রতিবেদক