মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগর গোয়ালপাড়ায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়

একমাত্র আসামি ফটিকের মৃত্যুদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৭-২০২৬ ইং
জীবননগর গোয়ালপাড়ায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়

দীর্ঘ আড়াই বছর পর চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম খাতুন (১০) চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোক্তাগীর আলম। এছাড়াও আসামি আবুল হোসেনকে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। রায়ের পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মরিয়ম খাতুন জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ছাত্রী ও জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের মেয়ে।


মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী শিশু হুযাইফা (৭) ও সিনহা খাতুনকে নিয়ে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে আছিয়া ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে। সে মরিয়মকে আরও শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় এবং বাকিদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে।


দীর্ঘ সময় পর ওই ব্যক্তি একা ফিরে এলে আছিয়া তার বোনের কথা জানতে চায়। তখন লোকটি জানায়, মরিয়ম একটু পরেই আসবে। এই বলে সে দ্রুত ভ্যান নিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি শুনে সন্দেহ হলে মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠের দিকে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতে মরিয়মের গলাকাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।


এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের পিতা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।


আদালত সূত্র জানা যায়, মামলা চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। চার্জশিট ও ডিএনএ রিপোর্টসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত গতকাল সোমবার এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।


মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘জীবনগর থানার গয়েশপুর গ্রামের মরিয়ম হত্যা মামলার আজকে রায়ের দিন ছিল। একমাত্র আসামি আবুল হোসেনকে পুলিশ আটক করে। আটকের পর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বমোট ৩১ জন স্বাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়। ৩১ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য, আসামির জবানবন্দি এবং ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট সবমিলিয়ে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত মতে আদালত শান্ত হয়ে আসামিকে সবোর্চ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করে। এই রায়ে বাদী তথা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমি মনে করি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে স্থবির জনজীবন