শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেয়র-প্রশাসক বদলায়, বদলায় না ঝিনাইদহ পৌরসভার জলাবদ্ধতা

শহরে অপরিকল্পিত ড্রেন গলার কাটা, দুর্ভোগ চরমে
  • আপলোড তারিখঃ ১১-০৭-২০২৬ ইং
মেয়র-প্রশাসক বদলায়, বদলায় না ঝিনাইদহ পৌরসভার জলাবদ্ধতা

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঝিনাইদহের বিভিন্ন পাড়ায় মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। নাকরিকরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাস্তার ওপর পানি জমে থাকায় মানুষ চলাচল করতে পারছে না। ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পার করলেও শহরে মজবুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোটি কোটি টাকার অপরিকল্পিত ড্রেন মহল্লাবাসির জনদুর্ভোগ ও গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে।


এদিকে ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের ছোট-বড় সব খাল, পুকুর ও নালা ভরাট করে বাড়ি তৈরি করার কারণে পানি বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তাই পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা পৌরসভার ড্রেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে পাড়া-পাড়ায় সমস্যা চিহ্নিত করে অস্থায়ী ভিত্তিতে পানি বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


সরেজমিন দেখা গেছে, ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রায় ৮০ ভাগ ড্রেনের কোনো মাথামুন্ডু নেই। বিভিন্ন মেয়রের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন তৈরী করা হলেও একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সংযোগ নেই। ফলে বৃষ্টির পানি ড্রেন ছাপিয়ে পাড়া-মহল্লায় প্রবেশ করে।


তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা গঠিত হয়। এ পর্যন্ত ১৪ জন রাজনৈতিক নেতা মেয়র ও কয়েকজন আমলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে পরিকল্পিত ড্রেন তৈরিতে কেউ কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট করে চলে গেছেন। ব্যাপারীপাড়া, পাগলাকানাই, আদর্শপাড়া, মহিলা কলেজপাড়া, উপ-শহরপাড়া, পাগলাকানাই এলাকার বদরউদ্দীন সড়ক, পূজা মন্দিরপাড়া, চাকলাপাড়া, কলাবাগান, গীতাঞ্জলী সড়ক, কাঞ্চননগর, হামদহ, পবহাটী, ভটিয়ারগাতি, আরাপপুরসহ ৩০টি পাড়ায় ড্রেন থাকলেও কোনো প্রবাহ নেই।


ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা আজিজুর রহমান জানান, ব্যাপারীপাড়ার ড্রেনগুলোতে কোনো প্রবাহ নেই। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অনেক স্থানে ড্রেন ভেঙে সমান হয়ে গেছে। ফলে বাসাবাড়ির পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ভেসে মহল্লা একাকার হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছি, পৌর কর দিচ্ছি কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। নাগরিকদের সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সে তিমিরেই রয়ে গেছে।’


পাগলাকানাই পূজা মন্দির এলাকার বাসিন্দা রিপন ঘোষ জানান, পাগলাকানাই ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ড্রেনের কোনো মাথামুন্ডু নেই। বাসাবাড়ির পানি কোথায় গিয়ে পড়বেÑসেই ব্যবস্থা ড্রেনে রাখা হয়নি। বরং ড্রেনের পানি উল্টো বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। তিনি আরও জানান, শুক্রবারের বৃষ্টিতে তাদের পাড়ার বেশির ভাগ বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। জোড়া পুকুর উপচে শহীদ জিয়া সড়কটি এখন পানির নিচে।


পাগলাকানাই এলাকার আরেক বাসিন্দা ব্যাংকার মাহবুব পানিমগ্ন পথ চলতে জানান, তাদের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র পথ বদর উদ্দীন সড়কটি তলিয়ে গেছে। ফলে পাড়ার মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা খুব কষ্টে আছে।


ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান জানান, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় এলজিএসপি ও পাবলিক হেলথের দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্রধান আরসিসি ড্রেন তৈরী ও ২৫ শহর প্রকল্পের আওতায় ছোট-বড় ১৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় শুক্রবার বিকালে জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কিছু হোটেল ও ক্লিনিকের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ড্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের নিরসনে কাজ চলছে। পানি জমে যাতে মানুষ কষ্ট না পায়, সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিশ্রম করছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গার নতুন বাজারে ইয়াবাসহ দুই মাদককারবারি আটক