বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কোটচাঁদপুরে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি!

বাইসাইকেল-ছাগল-সেলাই মেশিন ভাগাভাগি বিএনপি-জামায়াতের
  • আপলোড তারিখঃ ০২-০৭-২০২৬ ইং
কোটচাঁদপুরে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি!

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দে কেনা এসব বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইলচেয়ার বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।


এরই মধ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদ্রাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং তা নিজের নাতিকে উপহার দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে অবশেষে গতকাল বুধবার দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই জামায়াত নেতা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র সাইমুনকে সেই সাইকেল না দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে বাড়ি নিয়ে যান। পরবর্তীতে সাইকেলটি তিনি তাঁর মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।


ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বুধবার তড়িঘড়ি করে সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু জামায়াত আমিরই নন, বিএনপি নেতারাও বরাদ্দকৃত সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তাঁর প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরক্ষণেই বক্তব্য বদলে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তাঁর পুত্রবধূ মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।


সরকারি মালামাল দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’


মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলীও। তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তাঁর নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এমন সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’


বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরবর্তীতে তাঁরই নির্দেশে গতকাল বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত আনা হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।’ তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

কোটচাঁদপুরে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি!