চুয়াডাঙ্গায় ওপেন ডে হাউস উপলক্ষে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও সদর উপজেলার সাতগাড়ি গ্রামবাসীর আয়োজনে সাতগাড়ি জামে মসজিদের পাশে ঈদগাহ মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতগাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স, পুলিশের জিরো টলারেন্স। তবে প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, আপনাদের সকলের সহযোগিতাই পারে মাদক নির্মূলে মূল ভূমিকা রাখতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে বড় কোনো মাদক কারবারি শান্তিতে বাড়িতে এখন ঘুমাতে পারে না। এদের জন্য উপযুক্ত জায়গা এখন জঙ্গল। আমরা জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে খুব তৎপর। মোবাইল কোর্ট থেকে শুরু করে আমাদের সকল অভিযান চলছে এবং চলবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এখন তো বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। বিশ্বকাপ শেষ হলে পুরো জেলায় মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে। সেখানে জেলা পুলিশ বনাম যুবসমাজের খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘সকল দল-মত নির্বিশেষে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব। দল যার যার, মাদক বিরোধী আন্দোলন সবার।’
সভায় সাতগাড়ি মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যেখানে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং তাসের ঘর, সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে। মাদক এবং অনলাইন জুয়া আমাদের প্রতিটা পরিবারকেই শেষ করে দিচ্ছে। আমরা প্রায়ই ছেলে-মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এবং মাদকের টাকা না দেওয়ায় পিতা-মাতার ওপর অত্যাচারের কথা শুনছি। আমাদের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আপনারাই আমাদের শক্তি। এই সাতগাড়ি এলাকাকে আমরা মাদকমুক্ত করব ইনশাল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিআরপিসি ৭৯ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ জনগণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাহায্য করতে পারবে। সেই সহযোগিতা আপনাদের কাছ থেকে পাচ্ছি। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন সুনাগরিকের দেশের আইন মেনে চলা একটি কর্তব্য। আপনারা যখন মাদক কারবারিকে ধরবেন, তখন কোনো প্রকার আইন বিরোধী কাজ করবেন না। আপনারা তাকে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে দেবেন।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে যদি আপনারা মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে তথ্য পান, সরাসরি আমাদের সেই তথ্য দিন। যেকোনো বিষয়ে কোনো সাহায্যের দরকার পড়লে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা কখনই মাদককে প্রশ্রয় দেব না। যারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় সোপর্দ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তানদেরকে মাদকাসক্তি বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। সন্তানদের বিষয়ে খোঁজখবর না নিলে একটি পরিবার ধ্বংসের পথে চলে যাবে। তাই সন্তানদের খোঁজ নিতে হবে, তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে। অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে মাদক নির্মূলে বড় ভূমিকা রাখতে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন টিআই আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাতগাড়ি মাদক বিরোধী কমিটির সভাপতি বজলুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি মাহির উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ খাজের আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কবির হোসেনসহ এলাকার যুবসমাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং গ্রামবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক