দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে পাখিভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নানীর কোল থেকে পড়ে স্বর্ণা খাতুন নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন তার নানী সাজেদা খাতুন (৩৮)। স্বর্ণা (১) মেহেরপুর সদরের সৌদি প্রবাসী সাজেদুল ইসলামের মেয়ে এবং দামুড়হুদা উপজেলার পুরাতন বাস্তুপুর সালদাপাড়ার স্বর্ণকার নূর নবীর নাতনি।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা দেশভাটার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আহত নানী সাজেদা খাতুন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে শিশু স্বর্ণাকে নিয়ে যায় তার মা ও নানী। পরে পাখিভ্যানে ফেরার পথে চিৎলা দেশভাটার সামনে এসে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল তাদের ধাক্কা দেয়। এতে শিশু স্বর্ণা নানীর কোল থেকে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তার নানী সাজেদা খাতুনও ভ্যান থেকে পড়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু স্বর্ণাকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং সাজেদা বেগম চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই সামসু ও এসআই ফাহিম নিহত স্বর্ণার বাড়িতে এসে খোঁজখবর নেন। তবে নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন। পরে নিহত স্বর্ণার দাদা মরদেহ নিয়ে মেহেরপুর যান। মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে মেহেরপুর সদরের কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
পাখিভ্যানচালক মোবাশ্বের বলেন, ‘আমি পাখিভ্যান নিয়ে ঠিকমতো চলে আসছিলাম। কিন্তু সাইড থেকে মোটরসাইকেল চালক ধাক্কা মেরে তাদেরকে ফেলে দেয় এবং আমার পাখিভ্যান উল্টে যায়।’ দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের নিকট থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা