চুয়াডাঙ্গায় যথাযথ নিয়মে পশু জবাই ও কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
তিনি বলেন, আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোরবানির পশু প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পশু জবাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পশু জবাইয়ের পর চামড়া খুব সতর্কতার সঙ্গে ছাড়াতে হবে। চামড়ায় চর্বি বা মাংস লেগে থাকলে সংরক্ষণের সময় তা পচে যেতে পারে। চামড়া ভালোভাবে মেলে শুকিয়ে লবণ লাগাতে হবে। প্রথমবারের লবণ গলে চামড়ার সঙ্গে মিশে গেলে পুনরায় লবন দিতে হবে। চামড়ার মান ভালো রাখতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, কোরবানির ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চামড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। এ বছর জেলায় ৪৫ টন লবণ বরাদ্দ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, কোরবানির পর অনেকেই স্থান পরিষ্কার না করেই চলে যান। ফলে রক্ত ও পশুর বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এ জন্য রক্ত গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেওয়ার এবং নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার আহ্বান জানান তিনি। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মসজিদ ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস. এম. আশিস মোমতাজ, সহকারী কমিশনার সাগর দে, আবদুল্লাহ আল শামীম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক ও সুধীজন।
নিজস্ব প্রতিবেদক