চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ১২০ টাকায় ২১ জন তরুণ-তরুণী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন| নির্বাচিতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রয়েছেন| গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন|
এসময় তিনি জানান, ‘এক মাসের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা চুয়াডাঙ্গা জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছি| যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও শতভাগ ¯^চ্ছতার মধ্যদিয়ে আমরা আজ পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে পেরেছি| আমাদের নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন| এছাড়াও প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দদের কাছ থেকেও আমরা সাহায্য-সহোযোগিতা পেয়েছি|’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে শারীরিক সক্ষমতায় ২৩৯ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল| তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৪৪ জন উত্তীর্ণ হয়| লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন| নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে ২০ জন পুরুষ ও ১ জন নারী প্রার্থীকে আমরা চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছি| ৪ জনকে আমরা অপেক্ষমান তালিকায় রেখেছি| যদি ওই ২১ জনের মধ্যে কেউ যোগদান না করে, তবে অপেক্ষমান তালিকা থেকে আমরা বাছাই করে নেব|’
এ সময় নির্বাচিত প্রার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন| কেউ কেউ চাকরি পেয়ে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন| তেমনই কান্নায় ভেঙে পড়া চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চাকরিপ্রার্থী শাওন উদ্দিন বলেন, ‘আমি মাত্র ১২০ টাকার সরকারি ফিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই চাকরি পেয়েছি| দীর্ঘ এক মাসের শারীরিক ও মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পেরেছি| আমার বাবা একজন কৃষক| আজকের এই সফলতার পেছনে আমার বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি| বিশেষ করে আমার মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল আমি যেন বাংলাদেশ পুলিশের চাকরি পাই| কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমার মা এক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন| আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন|’
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ কার্যক্রমের শুরু থেকেই শতভাগ ¯^চ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় ডিস চ্যানেল, পত্রিকা, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সচেতন করা হয়| একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের দালাল ও প্রতারকদের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান| এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি ফি বাবদ একজন প্রার্থীর খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা|
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়| এতে আবেদন জমা পড়ে ১১০০টি| প্রথম ধাপে চাকরিপ্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই, শারীরিক মাপ, শারীরিক সক্ষমতা ও Physical Endurance Test (PET) সম্পন্ন করা হয়| পরে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় মোট ২৩৯ জন চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন| গতকাল রোববার সকালে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে ৪৩ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ মোট ৪৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন| পরে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন| সব ধাপ শেষে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে ২০ জন পুরুষ ও ১ জন নারী প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন|
এসময় ফলাফল ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আতিকুল হক, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস&) মোসফেকুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা|
নিজস্ব প্রতিবেদক