চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে তাফহিমুল হোসাইন নামের এক ব্যক্তিকে আবারও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত| একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তার পরিচালিত হাসপাতালটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| গতকাল বুধবার দুপুরে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বায়তুল মামুর চক্ষু হাসপাতালে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল| এসময় তাফহিমুল হোসাইনকে আটক করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়|
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাফহিমুল হোসাইন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন| অভিযোগ পাওয়ার পর গত সপ্তাহে ওই হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি| তবে বুধবার পুনরায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতে-নাতে ধরা হয়| অভিযানের সময় তিনি কোনো ˆবধ সনদপত্র দেখাতে পারেননি| ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দণ্ড দেওয়া হয় এবং হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়, যতক্ষণ না প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করা হচ্ছে|
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জন¯^াস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ| এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে| অভিযানে উপজেলা ¯^াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, ইউএনও’র কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন|
জানা গেছে, তাফহিমুল হোসাইনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে| ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল বান্দরবানে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনার সময় তাকে ও তার সহযোগীদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়| পরে ২০২৫ সালের ১০ মে মেহেরপুরের মুজিবনগরেও একই অভিযোগে তাকে আবার সাজা দেওয়া হয়| তিনি নিজেকে ‘রাশিয়া পাস চক্ষু বিশেষজ্ঞ’ দাবি করলেও তার নামে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বা কোনো ¯^ীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ পাওয়া যায়নি|
জীবননগর অফিস