একটি সাধারণ অসতর্কতা কেড়ে নিল দেড় বছরের শিশু জান্নাতুলের প্রাণ। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নূরনগর গ্রামে গলায় ওষুধ আটকে এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত শিশুটি ওই গ্রামের বাসিন্দা জালালের মেয়ে। শিশুটির এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু জান্নাতুল গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিল। অসুস্থতা উপশমে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ‘মেট্রিল’ ট্যাবলেট কিনে এনে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ট্যাবলেটটি গিলে ফেলার সময় শিশুটির গলায় আটকে যায়। মুহূর্তেই তার প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, ‘দুপুরে জান্নাতুল নামের শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে আনার আগেই তার মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ওষুধ আটকে দ্রুত শ্বাসরোধ হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’
এসময় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের ওষুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।’ তার মতে, শিশুদের জন্য তরল ওষুধের বদলে আস্ত ট্যাবলেট খাওয়ানোর ঝুঁকি অনেক সময় এমন প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। জান্নাতুলের এই অকাল প্রস্থান আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সামান্য অসাবধানতা কত বড় বিয়োগান্তক ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক