রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চুয়াডাঙ্গার আশ্রয়ণ প্রকল্প

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন
  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৪-২০২৬ ইং
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চুয়াডাঙ্গার আশ্রয়ণ প্রকল্প

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬২ আড়িয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে আঘাত হেনেছে কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের তণ্ডুলনৃত্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘর। বিশেষ করে দুটি ঘরের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন বাসিন্দারা। তবে দুর্যোগের এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ঘরগুলো মেরামতের কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে।


ঝড়ের সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা জানাতে গিয়ে বৃদ্ধা সায়বা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি তো মরেই যাচ্ছিলাম, আল্লাহ বাঁচাইছে। আমার সম্বল বলতে এই ঘরটাই আছে শুধু। ঘরটা এখন ঠিক করে দেওয়ায় আমি খুব খুশি, আমার খুব ভালো লাগছে।’ সায়বা খাতুনের মেয়ে খাদিজা খাতুন ঝড়ের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ঝড়ে আমাদের ঘরটা পড়ে গিয়েছে, কেউ একটু খোঁজও নেয়নি। আমার ছেলে, স্বামী কেউ নেই। মাঠে কাজ করি। এই ঘরটাই আমাদের শেষ সম্বল। ঝড়ের দিন আমি দেখছি চাল উঁচু হয়ে উড়ে যাচ্ছে, সেই মুহূর্তে আমি আমার মাকে কোলে নিয়ে বাইরে বের হয়ে আসি। ঘরের ভেতরে থাকা অনেক জিনিসপত্রেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’


গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারাও ঝড়ের পর চরম অসহায় বোধ করছিলেন। হাজরা খাতুন নামে এক বাসিন্দা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ঝড়ে আমাদের ঘর পড়ে গিয়েছে, গ্রামের কেউ একটু খোঁজ নেয়নি। পরে আমরা গ্রামের এক ছেলে শাহীনের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই। পরে আজ সকালে মিস্ত্রিরা এসে ঘরটা ঠিক করছে। এতে আমরা খুব খুশি।’


গ্রামের যুবক শাহীনের সময়োচিত পদক্ষেপেই মূলত প্রশাসনের নজর কাড়ে এই ঘটনাটি। শাহীন জানান, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে আবাসন প্রকল্পের ঘরের চাল উড়ে যায় ও একটা ঘর পড়ে যায়। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি। এবং সদর ইউএনও পোস্টে কমেন্ট করে জানান, আজকে মিস্ত্রি এসে ঘর মেরামত করবেন। তাঁরই পরিপ্রেক্ষিতে মিস্ত্রি এসে ঘর ঠিক করছে।’


ঘর মেরামতে আসা প্রধান মিস্ত্রি আব্দুর রাজ্জাক ঘরগুলো ভেঙে পড়ার কারিগরি কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে ৩ বছর আগে এই ঘরে আগুন লেগেছিল, ফলে ঘরের বেশ কিছু সরঞ্জাম পুড়ে গিয়েছিল। সরঞ্জামগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ঝড় হওয়াতে ঘরটা পড়ে যায়। আমাদের ইউএনও স্যার পাঠিয়েছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে ঘরটা ঠিক করে দিতে।’


উপজেলা প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপে বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দুটি ঘরের চাল পড়ে গেছে, কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা মেরামত ও নতুন টিন দিচ্ছি। ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবসময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে।’ প্রশাসনের এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপে এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত